বিনোদন

মদের চেয়েও ভয়ঙ্কর নেশা টিকটক

রাতারাতি জনপ্রিয় হতেই ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপে ভিডিও বানিয়ে আপলোড করছে কিছু মানুষ। করোনা মহামারির অলস সময়ে অনেকেই ঝুঁকেছেন এই কালচারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা একে মাদকের চেয়েও ভয়ঙ্কর নেশা বলছেন, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ে সুযোগ না হওয়ায় এখন টিকটক লাইকিতে নিজেরাই ভিডিও বানিয়ে আপলোড করছেন এমন ঘটনা অনেক। এসব ভিডিও ক্লিপে কেউ বনে যাচ্ছেন নায়ক-নায়িকা কেউবা পার্শ্ব চরিত্রে।

টিকটক নির্মাতারা বলেন, চলচ্চিত্রে কাজ করার ইচ্ছে ছিল, সেখানে সুযোগ না পাওয়ায় সান্ত্বনা পাচ্ছি টিকটক থেকে। এখানে অনেক ভালো সময় কাটে এবং মানসিক শান্তি পাই। আরেকজন বলেন, যার যে মেধা আছে সে তা করছে।

টিকটক লাইকির বেশিরভাগ ভিডিও আপত্তিকর। তারপরও দিনের একটা বড় সময় এসবের পেছেনেই ব্যয় করে আসক্তরা। ফলোয়ার শেয়ার লাইক কমেন্টস এর কাটতি বাড়াতে উঠতি বয়সীদের মতো অনেকেই এর মোহে পড়েছেন। সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে অশ্লীল ভিডিও তৈরিতেও পিছ পা হচ্ছেন না অনেকে। তারপরও কিছু অভিভাবক সন্তানদের এমন কর্মকাণ্ডে চুপ থাকেন।

অভিভাবকরা বলেন, ভাইয়ের ছেলে মেয়েরা এসব করে এতটুকু জানি। তরুণদের জন্য তো এসব ভালোই। আরেক অভিভাবক বলেন, কিছু গান আছে কে কীভাবে পছন্দ করছে বা কীভাবে প্রচার করছে এটি ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে।

বাস্তবতা বিবর্জিত এমন কর্মকাণ্ডে আসক্তরা পরিবার সমাজ বা রাষ্ট্র থেকে দিন দিন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে জানান এই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম আতিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ছোট যে কাজগুলোতে পরিশ্রমের দরকার হয় না সেই কাজগুলো আমরা খুব সহজে মাদকের মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছি। তখন দেখা যায় আমরা সেই কাজটি বার বার করছি। একসময় মিথ্যা করেও হলেও ভাবতে শুরু করে আমিও অভিনেতা।

সস্তা জনপ্রিয়তার নামে এমন আসক্তি থেকে মুক্ত হতে আসক্তদের কাউন্সিলিং করার পরামর্শ মনোবিজ্ঞানীদের।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button