সারাদেশ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে দেখা মেলে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘার

বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম এই পর্বতশৃঙ্গ দেখতে ছুটছেন পর্যটকরা, আবাসন ও ভালো মানের খাবার হোটেলের অভাবে ভোগান্তি।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যাচ্ছে—নেপাল ও সিকিম সীমান্তে অবস্থিত বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ (উচ্চতা ৮৫৮৬ মিটার) কাঞ্চনজঙ্ঘার দুর্লভ মায়াবী দৃশ্য। করোনায় লকডাউনের কারণে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবং আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় এবার আগে ভাগেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। অন্যান্য বছর ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত এবং বিকাল থেকে সন্ধ্যার আগমুহূর্ত পর্যন্ত দেখা যেত কাঞ্চনজঙ্ঘা। কিন্তু এবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনভর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে।

এর আগে শুধু তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলেও এ বছর পঞ্চগড়সহ পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার কিছু স্থান থেকেও দেখা যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও তাই দলে দলে পর্যটকরা ভিড় করছেন পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়ায়। তবে তেঁতুলিয়ায় আবাসন ও ভালো মানের খাবার হোটেলের অভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকরা।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৯ অক্টোবর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। এবার জেলার করতোয়া ব্রিজ, অমরখানা মাগুরমারী চৌরাস্তা, মাঝিপাড়া, বাংলা টি কারখানা, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, রণচণ্ডী, তিরনইহাট, কাশিমগঞ্জ, শালবাহান, আনন্দধারা, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পর্যটকরা কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য অবলোকন করছেন। তবে মহানন্দা নদীর পাড় বা ডাকবাংলো এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দুর্লভ মায়াবীদৃশ্য সবচেয়ে সুন্দরভাবে দেখা যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা ইত্তেফাককে জানান, দ্রুত এই সমস্যা নিরসনের জন্য একটি কমিউনিটি ট্যুরিজম প্ল্যান নিয়েছি।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিন ইত্তেফাককে জানান, তেঁতুলিয়ায় ডাকবাংলোগুলোর কক্ষ বৃদ্ধিসহ একটি ডরমেটরি স্থাপন এবং একটি অবজারভেশন টাওয়ার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। জেলা পুলিশ সুপার মো. ইউসুফ আলী জানান, তেঁতুলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টুরিস্ট পুলিশসহ হাইওয়ে পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button
error: Content is protected !!