কাহালু উপজেলা

কাহালুতে জমজমাট ঐতিহ্যবাহী নবান্ন মাছের মেলা

আজ ২রা অগ্রহায়ন, বাঙালির নবান্ন উৎসবকে ঘিরে বগুড়ার কাহালুতে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা।

মাছে ভাতে বাঙালির নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে কাহালুবাসী। কাহালুর মাছের অড়ৎ এবং দোকান গুলোতে মাছ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ক্রেতারা। সেই সাথে চলছে মাছ কেনার জন্য দামকষাকষি। উচ্চ শ্রেণির মানুষের মধ্যে রিতীমতো চলছে বড় মাছ কেনার প্রতিযোগীতা।

এই উৎসবকে ঘিরে কাহালুর মাছের হাটে ছিল উপচে পড়া ভীড়। অনেকে দেখতে এসেও কিনে ফেলছেন পছন্দের মাছ।

ভোর ৩টা থেকে কাহালু বাজারে আসতে থাকে বড় মাছ, এবং চলে রাত আটটা নয়টা পর্যন্ত। এজন্য মাছ কেনার জন্য এলাকাবাসীর পাশাপাশি জেলা শহর এবং আশে পাশের উপজেলা থেকে মানুষ আসেছে মাছ কেনার জন্য। মাছ-মানুষে পরিপূর্ণ কাহালুর মাছের হাট। বিভিন্ন হাওড়-বাওড়, নদী এবং খাল থেকে আনা হয় বিভিন্ন প্রজাতির বিশাল বিশাল মাছ।

রাজশাহী, পুঠিয়া, সাপাহাড়, তালোড়া সহ আরও বিভিন্ন এলাকার খাল বিল থেকে আনা হয় বিশাল আকারের মাছগুলো। বাজারে উঠেছে কাতল, রুই, সিলভার কার্প, বোয়াল, চিতল, কালবাউশ, ব্রিকেট, পাঙ্গাস সহ নানা প্রজাতির বিশাল বিশাল মাছ। প্রতিবারের তুলনায় এবারের নবান্নতে বড় মাছের আমদানি কম থাকলেও পছন্দমতো মাছ কিনতে পেরে খুশি ক্রেতা-বিক্রেতারা।

এছাড়াও বাজারে নবান্নকে ঘিরে দেশী চিড়া, দই, জিলিপি, সহ নানা প্রকারের মিষ্ঠান্নর পসরা নিয়ে বসেছেন দোকানীরা। অন্যদিকে নবান্নকে ঘিরে বাজারে উঠেছে নানা প্রজাতির নতুন নতুন সবজি।

কাহালুর মাৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম এর সাথে কথা বলা হলে তারা জানান, “বাজারে অনেক মাছ উঠেছে, এসব মাছ দুর দুরান্ত থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। খরিদ্দার আসছেন দেখছেন আর তাদের পছন্দমতো কিনছেন মাছ। উৎসববের জন্য আমরা অনেক ছাড়ও দিচ্ছি।”

বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে গিরাইল গ্রামের সাধন চন্দ্র বলেন “এটা আমাদের একটা বিশাল উৎসব। এই নবান্নকে ঘিরে আমাদের বাড়ি বাড়ি জামাই বেটি আত্নীয় স্বজনদের দাওয়াত করে খাওয়ানো হয়।”

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button
error: Content is protected !!