শেরপুর উপজেলা

বগুড়ার শেরপুরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে লেপ-তোষক বানানোর কারিগরা

নাজমুল হুদা নয়ন, শেরপুর(বগুড়া) প্রতিনিধিঃ দেখতে দেখতে চলে আসলো হালকা শীতের হাওয়া। আর শীত মানেই প্রশান্তির ঘুমের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ঋতু। দিনে মোটামুটি গরম, রাতে শীত। সন্ধ্যা নামলেই বইতে শুরু করে হিমেল হাওয়া। রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে ঠান্ডা। সকালে সবুজ ঘাস ও গাছের পাতায় জমছে শিশির কণা।

সেভাবে শীতের শুরু না হলেও জলবায়ু পরিবর্তনে অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। আর এই শীত মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বগুড়ার শেরপুরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে লেপ-তোষক বানানোর কারিগরা।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের স্থানীয় বাসষ্টান্ডে লেপ-তোষক দোকানের সামনে বসে একটার পর একটা লেপ-তোষক বানানোয় ব্যস্ত কারিগররা।একটু সামনে গিয়ে আরো চোখে পড়ে সারিতে সারিতে বসে লেপ বানাচ্ছে কারিগররা। সেখানে কথা হয়, কারিগর জাহাঙ্গীর হোসেনর সাথে। তিনি জানান, কয়েকদিন যাবৎ এখানে রাতে শীত বেশি পড়ায় লোকজন শীতবস্ত্রের প্রতি বেশী ঝুঁকছেন।প্রতিদিন আমার এখানে প্রায় ৩-৫টি লেপ-তোশকের অর্ডার হয়ে থাকে।

এ বছর তুলা ও কাপড়ের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর খরচ বেশি হচ্ছে। যেমন- শিমুল তুলা প্রতি কেজি ২২০ টাকা,কার্পাস তুলা ২৫০ টাকা, গার্মেন্টস তৈরি কালো পচা তুলা ১৫ টাকা, সাদা তুলা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় ক্রয় করি। এছাড়াও কাপড়ের গজ মান অনুযায়ী প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ভালো মানের একটি লেপ বানাতে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকার মতো খরচ আসে। একই মানের একটি তোষকেও খরচ আসে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা।
লেপ-তোষক কারিগর মাহবুবর রহমান, ইলিয়াস আলী, রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন তারা ৪/৫ টি লেপ সেলাই করে থাকেন। সাইজ অনুযায়ী প্রতিটি লেপে তারা মজুরি পান ১৫০থেকে ২০০ টাকা।

আর সেলাইকর্মীরা সবাই একই নিয়মে মজুরি নিয়ে থাকেন।দিন শেষে ৫’শ থেকে ৭’শ টাকা রোজগার হয় তাদের। তা দিয়েই সংসার চালান তারা। এছাড়াও এখন শীত কম থাকায় অতোটা

কাজের চাপ পড়েনি। শীত আরেকটু বাড়লেই আমাদের দম ফেলার সময় থাকবেনা।আরেক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, বছরের অন্যান্য সময় মাসে ২ থেকে ৪ জন তোষক কিনতে আসলেও লেপের চাহিদা একেবারেই থাকে না। শীতের শুরু থেকেই লেপ ও তোষক বিক্রি হয়ে থাকে। সব থেকে বেশি বিক্রি হয় লেপ। যে-কারণে চাহিদার কথা মাথায় রেখে লেপ সেলাই কর্মীদের সংখ্যাও বাড়াতে হয় কয়েক গুণ।লেপ কিনতে আশা ক্রেতা আবু বকর জানান, দিনে গরম থাকলেও রাতে ঘুমানোর সময় প্রচন্ড শীত পড়ে। তাই আগেভাগেই শীতের জন্য একটি লেপ বানিয়ে নিচ্ছি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button