শিক্ষাশিক্ষা প্রতিষ্ঠান

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ শর্তে ফাইনাল পরীক্ষা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা এবং ব্যবহারিক ক্লাস নেয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। এর জন্য ৭টি নির্দেশনা দিয়েছে ইউজিসি। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

করোনার কারণে ৭ মাসের বেশি সময় বন্ধ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে বন্ধ আছে সব পরীক্ষাও।

এ অবস্থায় সেমিস্টার পরীক্ষা এবং ব্যবহারিক ক্লাস নেয়ার অনুমতি চায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে সর্বশেষ সেমিস্টারের ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছে মঞ্জুরি কমিশন। ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষার হলে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অপরজনের দূরত্ব থাকতে হবে ন্যূনতম ৬ ফুট। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও একই দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষার কারণে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, শেষ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার জন্য অনেকেই আটকে ছিলেন। ফলে তারা কোনো চাকরিতে আবেদন করতে পারছিলেন না। এখন পরীক্ষা শেষ হলে তাদের জন্য ভালো হবে।

সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কমানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও চান শিক্ষার্থীরা।

নির্দেশনাসমূহ:

১. একদিনে ১টি প্রোগ্রামের ১টির বেশী ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না।

২. দেশে জনস্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্যবিধি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা (যেমন: বাধ্যতামূলক ফেস মাস্ক পরিধান, শারীরিক দূরত্ব, ক্যাম্পাস ও ক্লাসে স্যানিটাইজার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি) কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

৩. প্রতি ক্লাসে একসাথে অনধিক দশ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।

৪. শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা শুরুর কেবলমাত্র আধা ঘন্টা আগে ক্যাম্পাসে আসা এবং তা শেষ হওয়ার আধা ঘন্টার মধ্যে ক্যাম্পাস ত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে।

৫. সংশ্লিষ্ট কোর্সের মৌখিক পরীক্ষা অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে; ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষার হলে প্রতিজন শিক্ষার্থীর মাঝে দূরত্ব থাকতে হবে ন্যূনতম ০৬ ফুট।

৬. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও আলোচিত দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, এবং ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষার কারণে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব।

৭. এ ব্যাপারে কমিশন কোন দায়ভার গ্রহণ করবে না।

পত্রে গত ০৭-০৫-২০২০ তারিখে জারিকৃত সাধারণ নির্দেশাবলী যথাযথ প্রতিপালন ও অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতা ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিগত ০৭-০৫-২০২০, ২০-০৫-২০২০ এবং ১৭-০৮-২০২০ তারিখে কমিশন কর্তৃক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ণ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

ওই নির্দেশনায় ল্যাবরেটরি ভিত্তিক সকল কোর্সের ব্যবহারিক ক্লাস, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরই অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে সম্পন্ন করতে হবে, এ মর্মে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল।

কভিড-১৯ -এর বিস্তার রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ আছে এবং এ বন্ধ আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button