লাইফস্টাইল

‘ফ্যাশনেবল’ মাস্ক পরা কি উচিৎ?

‘ফ্যাশনেবল’ মাস্ক পরা কি উচিৎ? যা বলছেন চিকিৎসকরা ! এখনও কমেনি করোনার প্রকোপ। প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে কমবেশি সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন। যারা নিয়মিত বাইরে বের হন অনেকেই একাধিক মাস্ক ব্যবহার করেন। ইদানীং মাস্কের ব্যবসাও বেশ জমে উঠেছে। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে রঙ-বেরঙের মাস্ক। 

অনলাইনে অনেকে কেতাদুরস্ত মাস্ক কিনতে শুরু করেছেন। শাড়ি কিংবা পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে বিক্রি হওয়া হরেক রঙের মাস্ক কিনছেন কেউ। লিপস্টিক পরলে যাতে বোঝা যায়, সেই ভিত্তিতে নানা রকম স্বচ্ছ মাস্কও এসেছে বাজারে। কতটা নিরাপদ এই কেতাদুরস্ত মাস্কগুলো?

ভারতের মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, সার্জিক্যাল মাস্ক বা ভালভবিহীন এন-৯৫ মাস্ক পরতে পারলে ভালো, নাক-মুখ ঢেকে থাকবে, এমন মাস্ক পরতে হবে। কিন্তু কেতাদুরস্ত মাস্কে ভাইরাস কতটা আটকায় তার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ, সার্জিক্যাল তিন স্তরের মাস্ক এখন সব থেকে ভালো। যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি বা কোনও জটিল অসুখ আছে তারা কখনও কেতাদুরস্ত মাস্ক বা সুতির মাস্ক ব্যবহার করবেন না। ভালভবিহীন এন-৯৫ এবং ত্রিস্তরীয় ডিসপোজেবল সার্জিকাল মাস্ক পরলে ৯০ শতাংশ সুরক্ষা পাওয়া যাবে।

মাস্ক পরতে হলে যে বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

  • মাস্ক হবে ত্রিস্তরীয়,সার্জিক্যাল মাস্কই গ্রহণযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে কেতাদুরস্ত মাস্কে কোনও রকম সুরক্ষা মিলবে না।
  • মাস্ক যেখানে সেখানে খোলা যাবে না। প্রয়োজন হলে মাথার পিছনে বা কানের পিছনের অংশ দিয়ে সন্তর্পণে খুলতে হবে। 
  • মাস্কের ভিতরে একেবারেই হাত দেয়া যাবে না। যেখানে অনেক লোক রয়েছে বা এরোসল তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে ভালভবিহীন এন-৯৫ পরা বাঞ্ছনীয়।
  • কাপড়ের মাস্ক পরে খুব একটা লাভ নেই। কেতাদুরস্ত মাস্কে কোনও রকম সুরক্ষা মিলবে না।
  • সার্জিক্যাল মাস্কের কার্যকারিতা ৮ ঘণ্টার মতো। তাই ব্যবহার করার পর সেটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ফেলে দিতে হবে। এক বারের বেশি কোনোমতে ব্যবহার করা যাবে না।
  • যাদের সার্জিক্যাল মাস্ক নেই, সে ক্ষেত্রে দুটি কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে একই সঙ্গে। বাড়ি এসে সাবান পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে পাঁচ দিন পর আবার ব্যবহার করা যাবে।

সূত্র-আনন্দবাজার পত্রিকা 

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button