ধুনট উপজেলা

বগুড়ার ধুনটে যৌতুক না পেয়ে শশুরকে হত্যা করে পানিতে নিক্ষেপ

বগুড়ার ধুনটে অতিরিক্ত যৌতুকের টাকা না পেয়ে রুবেল আকন্দ (৫৫) নামে এক দিনমজুরকে হত্যার পর লাশ খালের পানিতে নিক্ষেপ করেছে তার জামাই নাহিদ হাসান। নিহত রুবেল উপজেলার শিয়ালি গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে রুমা আকতার বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার নিমগাছি গ্রামের জাহেদুর রহমানের ছেলে নাহিদ হাসান প্রায় ১২ বছর আগে রুমা আকতারকে বিয়ে করে। বিয়ের সময় নাহিদকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেয়। কিন্ত ২ বছর ধরে নাহিদ তার শ্বশুরের নিকট অতিরিক্ত ১ লাখ টাকা দাবি করে। কিন্ত শ্বশুরের পক্ষে জামাইয়ের দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে শ্বশুর-জামাইয়ের মাঝে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এ অবস্থায় বুধবার সকালের দিকে নাহিদ তার শ্বশুরের সাথে অসুস্থ্য শাশুড়িকে দেখতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে ওই দিন রাত ৮টার দিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গাবতলি উপজেলার বেলতলী সোনাইখালী খালের সেতুর উপর শ্বশুরকে হত্যা করে। এরপর শ্বশুরের লাশ গোপন করার উদ্দ্যেশে পানিতে ফেলে দিয়েছে। শুক্রবার সকালের দিকে আতিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক যুবক খালের পানিতে অজ্ঞাত ভাসমান লাশের ছবি তুলে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। ভাসমান মৃতদেহের ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

এদিকে রুবেল আকন্দ বাড়িতে ফিরে না আসায় তার পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে ফেসবুকে ছবি দেখে নিহতের মেয়ে রুমা আকতার ও তার স্বজনরা রুবেলের লাশ সনাক্তের পর বিষয়টি থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাসমান লাশের সন্ধান করতে পারেনি। এ ঘটনায় রুমা আকতার বাদী হয়ে নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। ঘটনার পর থেকে নাহিদ হাসান পলাতক রয়েছে।

ধুনট থানার অফিসার ইনাচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, রুবেলের মৃতদেহ ফেসবুকে দেখে তার স্বজনরা সনাক্ত করেছে। কিন্ত রুবেলের মৃতদেহ বাঙ্গালী নদী দিয়ে ভাটির দিকে ভেসে যাওয়ায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতার প্রমান মিলেছে। নাহিদ হাসানকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button
ভাষা নির্বাচন