গাবতলী উপজেলাবগুড়ার ইতিহাস

গাবতলী উপজেলা সম্পর্কিত তথ্য



২৪°৪৬´ থেকে ২৫°০১´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°২২´ থেকে ৮৯°৩৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে শিবগঞ্জ (বগুড়া) ও সোনাতলা উপজেলা, দক্ষিণে ধুনট উপজেলা, পূর্বে সারিয়াকান্দি উপজেলা, পশ্চিমে বগুড়া সদর ও শাহজাহানপুর উপজেলা অবস্থিত।


নামকরণের ইতিহাসঃ আনুমানিক ১৭৫০-১৮০০খ্রিষ্টাব্দে গাবতলী গ্রামের পিছন দিকের নিচু জমি দিয়ে বড় বড় পাট বোঝাই নৌকা গাবতলী সদর থেকে উত্তর দিকে ইছামতি নদী দিয়ে পীরগাছা হাট হয়ে রংপুর জেলার দিকে চলাচল করত, দক্ষিণ দিকে পোড়াদহ হয়ে যমুনা নদীতেও চলাচল করত। প্রাচীন এই গ্রামের বিভিন্ন স্থানে তাই নৌকার তলার কাঠ পাওয়া যেত। এখনও মাটি কাটলে বিভিন্ন জায়গায় নৌকার কাঠ পাওয়া যায়। এতে সহজেই অনুমেয় গাবতলি গ্রাম পূর্বে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর ছিল। নৌ চলাচলের যাত্রা বিরতিকালে এই অঞ্চলে প্রকাণ্ড আকারের গাব গাছের নীচে একটি ঘাটে আশ্রয় নিত। ধারণা করা হয়, বটগাছের তলায় (নিচে) স্থাপিত ঘাঁটকে গাবতলি ঘাঁট হিসেবে অভিহিত করা হয়। উক্ত গাবতলি ঘাঁটকে কেন্দ্র করে জনবসতি এবং ব্যাবসা বানিজ্য গড়ে উঠলে এই অঞ্চলটি গাবতলি (১৮২১ খ্রিষ্টাব্দে) ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে উন্নীত হয়।


উপজেলা প্রতিষ্ঠার পটভূমীঃ গাবতলি থানা প্রতিষ্ঠার পূর্বে সারিয়াকান্দি থানা একটি ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে সারিয়াকান্দি থানা হতে গাবতলি, নেপালতলি, নাড়ুয়ামালা ইউনিয়ন শিবগঞ্জ থানা হতে কাগইল, সোনারায় ইউনিয়ন, শেরপুর থানা হতে মহিষাবান, দুর্গাহাটা, বালিয়াদিঘী, নশিপুর ইউনিয়ন এবং বগুড়া সদর উপজেলা হতে রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন নিয়ে গাবতলি থানা গঠিত হয়। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে সারিয়াকান্দি থানা হতে সোনাতলা, বালুয়া, জোরগাছা এবং দিগদাইড় ইউনিয়ন গাবতলি থানায় অন্তভুক্ত করা হয়। ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে গাবতলি থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়।


প্রশাসনিক এলাকাঃ গাবতলি পৌরসভা গাবতলি ইউনিয়ন পরিষদ । নেপালতলি ইউনিয়নপরিষদ । সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদ । কাগইল ইউনিয়ন পরিষদ । রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদ । মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদ । দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ । দুর্গাহাটা ইউনিয়ন পরিষদ । বালিয়াদিঘী ইউনিয়ন পরিষদ । নাড়ুয়ামালা ইউনিয়ন পরিষদ । নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃকলেজঃ উপজেলায় মোট ১০ টি কলেজ রয়েছে । এর মধ্যে সরকারী কলেজ ১টি, বেসরকারী কলেজ (ডিগ্রি/অনার্স) ৪ টি, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ৩টি, স্কুল এন্ড কলেজ ১টি। উল্লেখযোগ্য কলেজ গুলো হলোঃ ১. গাবতলী সরকারী কলেজ (উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজ)।২. সুখানপুকুর সৈয়দ আহম্মেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।


মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃউপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৭টি। তার মধ্যে ১টি সরকারী এবং বাকীগুলো আধাসরকারী। উল্লেখযোগ্য বিদ্যালয় গুলো-১. গাবতলী সরকারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় (উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়)।২. গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।৩. মড়িয়া আর এম পি উচ্চ বিদ্যালয়।৪. কাগইল করুনাকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়।৫. মোস্তাফিজার রহমান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়।


প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃসরকারী ভাবে সকল বেসরকারী রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারী করণের পর উপজেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৬৪ টি এছাড়াও উপজেলায় আরো ৪টি কিন্ডার গার্টেন রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ ১. মড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।২. গাবতলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।৩. নেপালতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃউপজেলায় মোট ৬২টি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ২১ টি, আলীম মাদ্রাসা ৫ টি, ফাজিল মাদ্রাসা ২ টি এবং ৩৪ টি এবতেদায়ি, আলীয়া ও কওমী মাদ্রসা রয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button