সোনাতলা উপজেলা

সোনাতলা উপজেলা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য


নামকরণঃসোনাতলা নামকরনের নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে জনশ্রুত অনুসারে নামকরনের একাধিক তথ্য পাওয়া যায়। তা আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলোঃ

বিজ্ঞাপন


প্রথমত:ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে এতদাঞ্চল বার ভুঁইয়া প্রধান ঈশা খানের জমিদারীভুক্ত ছিল। ঈশা খান বর্তমান থানা সদর থেকে দুই মাইল পূর্বে বাঙ্গালী নদীর তীরে তার পত্নী সোনা বিবির নামে একটি গঞ্জ গড়ে তোলেন। জানা যায়, ঈশা খান প্রায়ই তার পত্নী সোনা বিবিসহ (বজরা) নৌকাযোগে এখানে আগমন করতেন। এই সোনাবিবির নামেই স্থানটির নাম হয়েছে সোনাতলা।


দ্বিতীয়ত:প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে প্রচুর পাট বা সোনালি অাঁশ উৎপাদিত হতো, কিন্তু খরস্রোতা বাঙ্গালী নদী বিভিন্ন সময় দু’কুল প্লাবিত করে তলিয়ে দিত এই সোনালি অাঁশ। এ জন্য এর নাম হয় সোনাতলা।


তৃতীয়ত:জনৈক বণিক নৌকাযোগে প্রচুর সোনা, রুপা, ধন-রত্ন নিয়ে বাঙ্গালী নদী দিয়ে যাওয়ার সময় এই অঞ্চলে দৈব-দুর্বিপাকে তার নৌকাটি ডুবে যায়। সেই ধন-রত্ন বা সোনা-রুপা সমেত নৌকাটি তলিয়ে যাবার কারণে লোকজন এই অঞ্চলের নাম রাখেন সোনাতলা।


ইতিহাসঃ
উপজেলা প্রতিষ্ঠার ইতিহাসঃ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দে রাজশাহী জেলা হইতে আদমদিঘী, শেরপুর, নওখিলা ও বগরা থানা, রংপুর জেলা হইতে দেওয়ানগঞ্জ ও গোবিন্দগঞ্জ এবং দিনাজপুর জেলা হইতে লালবাজার, ক্ষেতলাল,ও বদলগাছি থানা নিয়ে সর্বসমেত নয়টি থানা দ্বারা ”বগরা জেলা” সংগঠিত হয় । ”বগরা জেলা” সংগঠিত হইবার পর জেলায় একজন জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন , তিনি জেলার প্রশাসক রুপে দায়িত্ব পালন করেন । বগুড়া জেলা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর সোনাতলা নওখিলা থানার একটি ইউনিয়ন রুপে অন্তভুক্ত হয়। মানস নদী মরে যাওয়ায় নওখিলা থানা সারিয়াকান্দি স্থানান্তরিত হলে সোনাতলা, দিগদাইড়,বালুয়া এবং জোরগাছা সারিয়াকান্দি থানায় অন্তভুক্ত হয়।


১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে সারিয়াকান্দি থানা হতে বালুয়াহাট, দিঘদাইড়, জোড়গাছা, সোনাতলা ইউনিয়ন গাবতলি থানার সহিত যুক্ত হয়।


১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে গাবতলি থানা হতে বালুয়াহাট, দিঘদাইড়, জোড়গাছা, সোনাতলা এবং সারিয়াকান্দি উপজেলা হতে তেকানী চুকাইনগর, মধুপুর, পাকুল্লা ইউনিয়ন নিয়ে সোনাতলা থানা গঠিত হয়।


১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে সোনাতলা থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়।
প্রশাসনিক এলাকাঃসোনাতলা পৌরসভাসোনাতলা উপজেলার ০৭ টি ইউনিয়নঃসোনাতলা ইউনিয়ন পরিষদ। বালুয়া হাট ইউনিয়ন পরিষদ। দিগদাইড় ইউনিয়ন পরিষদ। জোড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদ। মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদ। তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ। পাকুল্ল্যা ইউনিয়ন পরিষদ।


Writer:Golam Zakaria Kanak


তথ্যসূত্রঃ ১. গৌড়ের ইতিহাস – কলকাতা। ২. বগুড়া ইতিহাস – শ্রী প্রভাস চন্দ্র সেন ৩. বগুড়া ইতিকাহিনী- কাজি মোহাম্মদ মিছের ।৪. বাংলাদেশের ইতিহাস- ড. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম ।৫. বাংলায় মুসলমানদের ইতিহাস—আব্বাস আলী খান

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button
ভাষা নির্বাচন