বগুড়া জেলা পরিচিতিবগুড়া সদর উপজেলামুক্তিযুদ্ধ বগুড়া

বগুড়ার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোহাম্মদ পাইকার খোকনের জীবন চরিত

শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোহাম্মদ পাইকার খোকন ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে বগুড়া শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাহাঁর পিতা-মরহুম মোজাম পাইকার। তিনি তাহাঁর মাতা-পিতার তৃতীয় পুত্র ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর লুৎফর রহমান সাহেবের শ্যালক ছিলেন।

(তাহাঁর শৈশব কাল এবং প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জন সম্পর্কিত কোন তথ্য জানতে পারি নাই। সেইজন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। তবে জানামাত্র আপনাদের নিকট উপস্থাপন করব। ইনশাআল্লাহ) ##

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে যখন তিনি বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন, তখন থেকেই তিনি দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের সম্পৃক্ত ছিলেন।

২৫ মার্চ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে রাতেই খোকন সঙ্গীদের নিয়ে বেরিয়ে পড়েন রংপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বগুড়ার দিকে অগ্রসরমান পাকিস্থানী সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করতে।
খোকন ও সহযোদ্ধাদের সাহসী প্রতিরোধের কারনে পাক হানাদার বাহিনী বগুড়া শহরে প্রবেশ করতে পারে নি। পাক হানাদার বাহিনীর নিকট হতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুর্য কেড়ে আনবার দৃপ্ত প্রত্যয়ে তিনি সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহনের জন্য ভারতে গমন করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাহাঁর নেতৃত্বে সতের জন মুক্তিসেনার একটি দল বর্তমান জয়পুরহাট উপজেলার আক্কেলপুর পৌছে। ভারত থেকে রওনা হওয়ার পুর্বে আক্কেলপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান (ভারতে অবস্থান) কর্তৃক প্রদেয় একটি চিঠি তাহাঁরই এক অনুগত কর্মীর নিকট পৌছাইয়া দেন। উক্ত চিঠিতে খোকন এবং তাহাঁর সহযোদ্ধাদের দেখভাল করার নির্দেশিত ছিল। কিন্তু উক্ত অনুগত কর্মী ততদিনে পাকবাহিনীর দালালে পরিণত হয়েছে, এটা তাহার জানা ছিল না।

খোকনের নেতৃত্বে সতের জন মুক্তিসেনা পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত্রীযাপনের জন্য উক্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। উক্ত ব্যক্তি আশ্রয়দাতা হয়ে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে গোপনে পাক হানাদার বাহিনীকে খবর দিয়ে ধরিয়ে দেন। পাক হানাদার বাহিনী প্রথমে ষোলজন মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করে। খোকনকে দিয়ে তাদের সহযোদ্ধাদের কবর খুঁড়িয়ে তাদের সমাহিত করানো হয়। তারপর তাকে উল্টা করে গাছে ঝুলিয়ে নির্মম শারিরিক নির্যাতন শেষে ১৪ জুন ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে তাহাঁর মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলায় তাহাঁর সমাধীস্থল অবস্থিত। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোহাম্মদ পাইকার খোকনের স্মৃতিসরুপ বগুড়া সদর পৌরসভার একটি পার্ক নামকরণ করা হয়।


তথ্য সংগ্রহঃ Golam Zakaria Kanak

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button