বগুড়ার ইতিহাস

বগুড়ার সাতানি জমিদার পরিবারের সন্তান “সাতানি মিয়াঁ”


মরহুম খানবাহাদুর হাফিজুর রহমান চৌধুরী জুলাই ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে বগুড়া জেলার সাতানি জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
পিতাঃ মরহুম মুন্সী আব্দুল হাফিজ ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত মাচান গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তিনি বিবাহ সুত্রে বগুড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মাতাঃ মরহুমা সালেমা সয়াদাতন নেছা সাতানি জমিদার কন্যা ছিলেন। তিনি উত্তরাধিকার সুত্রে জমিদারির মালিকানাপ্রাপ্ত হন। মরহুম খানবাহাদুর হাফিজুর রহমান চৌধুরী তাহার পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান ছিলেন। তিনিও জমিদারী প্রাপ্ত হয়ে সর্বসাধারণের নিকট “সাতানি মিয়াঁ” নামে সুপরিচিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন


শিক্ষাজীবনঃমরহুম খানবাহাদুর হাফিজুর রহমান চৌধুরী বগুড়া জিলা স্কুলে ভর্তির মাধ্যমে তিনি তাহার শিক্ষা জীবন শুরু করেন। তিনি ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বোর্ডের অধীনে বগুড়া জিলা স্কুল হতে এন্ট্রাস পাশ করেন। অতঃপর তিনি উচ্চতর শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে কলকাতায় গমন করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী অর্জন করেন।

বিজ্ঞাপন


পেশাগত জীবন ও সমাজসেবাঃমরহুম মৌলবী খানবাহাদুর হাফিজুর রহমান চৌধুরীর ন্যায় সর্বজন প্রিয় ও জনসাধারনের জন্য মঙ্গলজনক কার্যের উৎসাহ দাতা দানবীর জমিদার তৎকালে বিরল ছিল বলিলে অত্যুক্তি হবে না। অন্নদাতা হিসেবে তৎকালে বগুড়া তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। অতিথিসেবার জন্য তিনি তাহার বাসভবনে অতিথিশালা স্থাপন করেছিলেন।


মরহুম মৌলবী খানবাহাদুর হাফিজুর রহমান চৌধুরী বগুড়া সদর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি (১৯০০-১৯০৩) খ্রিস্টাব্দ প্রথমবারের মত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি (১৯০৩-১৯০৬), (১৯০৬-১৯০৯), (১৯০৯-১৯১২) পর্যন্ত বগুড়া সদর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মরহুম মৌলবী খানবাহাদুর হাফিজুর রহমান চৌধুরী (১৯১২-১৯১৫) খ্রিস্টাব্দে প্রথমবারের মত বগুড়া সদর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি কিছুকাল বগুড়া জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


মরহুম মৌলবী খানবাহাদুর হাফিজুর রহমান চৌধুরী ২৬ জুন ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে বগুড়ায় “ইয়ং ম্যানস মুসলিম এসোসিয়েশন” নামে একটি জনকল্যানকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।


মরহুম মৌলবী খানবাহাদুর হাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত ইয়ং ম্যানস মুসলিম এসোসিয়েশন”১৯৪৩-৪৪ খ্রিস্টাব্দে দুর্ভিক্ষের সময় প্রায় ১১০০ বেওয়ারিশ ও দুস্থ মানুষের দাফনকার্য সমাধা করে। এই সংগঠন বগুড়া জেলাবোর্ড, বগুড়া পৌরসভার সদস্যগনের মাসিক চাঁদার ভিত্তিতে পরিচালিত হত।


মরহুম মৌলবী খানবাহাদুর হাফিজুর রহমান চৌধুরী১৭ এপ্রিল ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে পরলোক গমন করেন।


মরহুম মৌলবী খানবাহাদুর হাফিজুর রহমান চৌধুরী চার পুত্র এবং ছয় কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। তাহার প্রথম পুত্র মরহুম মৌলবী আহমাদুর রহমান চৌধুরী বহু জনহিতকর কার্যের সহিত সংশ্লিষ্ট থেকে এবং বগুড়া মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা এবং পাকিস্তান আন্দোলন কারীদের মধ্য অন্যতম ছিলেন। দ্বিতীয় পুত্র মরহুম আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান চৌধুরী বেলজিয়ামের পাকিস্তানী রাষ্ট্রদুত এবং তৃতীয় পুত্র মরহুম আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান চৌধুরী পূর্ব পাক কাউন্সিলের ব্যবস্থাপক সভার একজন সদস্য ও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।


লেখক: Golam Zakaria kanak

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button