শাজাহানপুর উপজেলা

শাজাহানপুর উপজেলায় ‘জমি আছে ঘর নাই

বগুড়ার শাজাহানপুরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় 'জমি আছে ঘর নাই' এমন হতদরিদ্রদের জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বগুড়ার শাজাহানপুরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় ‘জমি আছে ঘর নাই’ এমন হতদরিদ্রদের জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন না করেই সমুদয় টাকা উত্তোলন করা, স্বচ্ছল ব্যক্তিকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া, বিনামূল্যে ঘর পাওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলায় ‘জমি আছে ঘর নাই’ এমন ১৮০ জন হতদরিদ্র পরিবারের অনুকূলে প্রতি পরিবারের জন্য ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি করে টিনের ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়নে ২০ জন করে তালিকাভুক্ত করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ৩০ জুন ২০১৮ ইং। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন না হওয়ায় পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুরোপুরি প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়নি। সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার আশেকপুর মধ্যপাড়ার আলমগীর হোসেন আলম নামে একজন স্বচ্ছল ব্যক্তিকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আলম আওয়ামী লীগের একজন কর্মী এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগী। আলমের বাবা আলহাজ্ব ইব্রাহীম একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবী। বর্তমানে নিজ জমিতে চাষাবাদ করেন। তার অপর দুই ছেলে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকুরিরত। সন্তানদের নিয়ে এক পরিবারেই বসবাস করছেন।

এমতাবস্থায় আলহাজ্ব ইব্রাহীম হোসেনের চার ঘর বিশিষ্ট বসতবাড়ির ভিতরে ছেলে আলমের নামে এই সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই ইউনিয়নের দারিকামাড়ি গ্রামের মৃত আলতাব আলীর পুত্র শাহিদুল ইসলাম নামে একজন স্বচ্ছল ব্যক্তিকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জানাজানি হলে বরাদ্দ পরিবর্তন করে অন্য কাউকে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানা গেছে। গোহাইল ইউনিয়নের পোয়ালগাছা গ্রামের বশির উদ্দিনের পুত্র হাফিজার রহমান নামে একজন স্বচ্ছল ব্যক্তিকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যিনি সুদের ব্যবসা করেন এবং জমি-জমা রয়েছে। একই ইউনিয়নের একজন মহিলা মেম্বারের স্বামীর নামেও ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় সুবিধাভোগীদরে নামের তালিকা জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তালিকা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ছাড়াও বিনা খরচায় ঘর পাওয়ার কথা থাকলেও সুবিধাভোগীদের নিকট থেকে নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনের নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। ডিসি অফিসের কোটেশন ঠিকাদার জহুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির মনোনীত তদারককারী হিসেবে ঘর নির্মাণ কাজের সামগ্রী আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজের তদারকি করছেন। গোহাইল ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু, আশেকপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ, খোট্টাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুক, মাদলা ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমানসহ অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানগণ জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প সম্পর্কে তাদের কিছু জানা নেই। তাদের কাছে কিছু জানতেও চাওয়া হয়নি। ইউএনও নিজেই তদারকি করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য হিসেবে শুধু কাগজে স্বাক্ষর করেছি। সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তিনি নিজেই বিষয়টি দেখভাল করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ফুয়ারা খাতুন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া উপজেলা বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

#তথ্যসুত্র-বগুড়া খবর

 

  • রাকিবুল ইসলাম 

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button