বগুড়া সদর উপজেলা

বগুড়ায় শীতের আগাম সবজি চাষের ধুম

মৌসুম শুরুর আগেই শীতের সবজি থেকে বড় অংকের টাকা আয় করেন বগুড়ার চাষীরা।

বগুড়ায় শীতের আগাম সবজি চাষের ধুম পড়েছে। কেউ কেউ আরো আগেই সবজি চাষে নেমেছেন। এরই মধ্যে কিছু সবজি বাজারে আসতেও শুরু করেছে। আগাম শাকসবজি বাজারে তুলতে পারলে বেশি টাকা আয় করা সম্ভব সেই চিন্তা মাথায় রেখে চারা তৈরি ও সবজি চাষে ব্যস্ত চাষিরা। শরতের শেষ দিকে বগুড়ার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। দিনের বেলা প্রচণ্ড গরম পড়লেও রাতে হালকা শীত অনুভূত হয়। আবহাওয়ার এমন পালাবদলে বগুড়ায় চাষাবাদের ধরনও পাল্টেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে এমন ছবিই দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

শীত পড়তে বেশি দেরি নেই। তাই শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত এখন বগুড়ার সবজি চাষিরা।বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় শীত ও গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষাবাদ করা হয়। গ্রীষ্মকালীন সবজি শেষ হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির পরপরই জেলার কৃষকেরা প্রস্তুতি নিয়েছেন শীতকালীন সবজি চাষে।

বগুড়া সদর, শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ, গাবতলী, কাহালু, শেরপুর ও সোনাতলা উপজেলার কিছু অংশে বড় পরিসরে শাকসবজির চাষ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে চাষিরা সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় তাঁরা শীতের আগাম চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। সবুজে সবুজে শীতের সবজিতে ভরে উঠেছে মাঠের পর মাঠ।শীতের আগেই বাজারে বিক্রি করে বেশি টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে এখন চাষিরা জমিতে শীতকালীন শাকসবজির চারা বপন ও পরিচর্জার কাজ করে যাচ্ছেন। বগুড়ায় যেসব শাকসবজি চাষ হয় সেগুলো হলো আগাম আলু, মুলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, ঢেঁড়স, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক ও পেঁয়াজ।

বগুড়া জেলায় গত মওসুমে ১২ হাজার হেক্টরে সবজি চাষ করা হয়। এতে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর সাড়ে ১২ হাজার হেক্টরে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে কৃষি বিভাগ। এ পরিমাণ জমিতে সবজির ফলন আশা করা হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ টন। বগুড়া জেলায় ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৬০০ হেক্টরে সবজি চাষ হয়েছে।

বগুড়ার শেরপুরের আব্দুল বারেক নামের এক কৃষক জানান, উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়। এখানে আগাম জাতের সবজি চাষ হয়েছে। শিম, মুলা, পালং শাক চাষ হয়েছে। তিনি আরো জানান, শেরপুরের হাটবাজারে পালং শাক বিক্রি শুরু হয়েছে। বর্তমান বাজারে নতুন আলু ১২০ থেকে ১৪০ টাকা টমেটু ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা , বাঁধাকপি ৬০ থেকে ৮০ টাকা , মুলা ১০ থেকে ২০ টাকা। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ  অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, জেলার শিবগঞ্জ, শাজাহানপুর, শেরপুর, গাবতলী, বগুড়া সদর, কাহালু উপজেলায় প্রচুর সবজির চাষ হয়। গত বছর সবজির ভালো ফলন পাওয়া গেছে। প্রায় আড়াই লাখ টন ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ বার । সবজি উৎপাদনে কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

 

  • রাকিবুল ইসলাম

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button