খেলাধুলা

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন বগুড়ার মেয়ে খাদিজা

কুবরার বয়স যখন ১৩ বছর, তখন থেকেই ক্রিকেট ওর ধ্যান-জ্ঞান। বাবা-চাচারাই ছিল ওর ক্রিকেট সতীর্থ

বগুড়া শহরের কলোনি এলাকার  মেয়ে খাদিজাতুল কুবরার ক্রিকেট জীবন শুরু হয় ২০০৮ সালে। বাড়ির পাশের মাঠে মেয়েরা ক্রিকেট খেলত। কুবরার বয়স তখন ১৩ বছর। সেই সময় থেকেই ক্রিকেট তার ধ্যান-জ্ঞান। বাবা-চাচারাই ছিল তার ক্রিকেট সতীর্থ। আস্তে ধীরে স্টেডিয়ামের বড় চত্বরে পদার্পণ। একসময় ও দেখা পায় বগুড়ার মুসলিম স্যারের (কোচ)। তিনিই মূলত স্পিন বোলিং শেখান কুবরাকে। মুসলিম স্যার নিশ্চয়ই এখন অনেক তৃপ্ত শিষ্যের পারফরম্যান্সে। কুবরা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিল, এখনো ও আগের মতোই ক্রিকেট উপভোগ করে। নিজের কাজটা উপভোগ করতে পারলে আর কী চাই!

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন অফ স্পিনার খাদিজাতুল কুবরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট আছে দুই জনের। অথচ ওয়ানডেতেই ছিল না কারও। সেই আক্ষেপ ঘুচল খাদিজা তুল কুবরার অফ স্পিনে। বাংলাদেশের মেয়েদের হয়ে ৫ উইকেটের প্রথম স্বাদই শুধু পাননি, আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট।  কঙবাজারে পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র ওয়ানডেতে সোমবার দেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের এই কীর্তি গড়েন খাদিজাতুল কুবরা। ৯.৫ ওভার বোলিং করে ২০ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ৯৪ রানে আটকে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে ৬ উইকেটে। গত বছর এই কঙবাজারেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন কুবরা। এবার শুধু নিজেকে নয়, ছাড়িয়ে গেলেন দেশের সবাইকে।

২৬ নভেম্বর ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখে খাদিজা মহিলা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে। প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করে সবার নজরে আসেন; পাকিস্তানের বিপক্ষে তুলে নেয় চার উইকেট! আয়ারল্যান্ডকে তো একাই ধসিয়ে দিল ছয় উইকেট নিয়ে। ফ্লাইটেড ডেলিভারি দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য ও। কলেজপড়ুয়া এই ক্রিকেটারের আত্মবিশ্বাসটাও চমক জাগানিয়া।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়ার পর ও বলেছিল, ‘আমি ভাবছিলাম, ওরা যতই ভালো ব্যাট করুক, আমরাও ভালো বোলার। আমাদের টিমটাও খারাপ না। একটা আত্মবিশ্বাস ছিলই।’ বড় লক্ষণীয় বিষয় হলো, মাঠে ওর কোনো জড়তা নেই। প্রথম ম্যাচ থেকেই ও সাবলীল। ভালো ক্রিকেটার হওয়ার জন্য এই গুণটা খুব জরুরি।  আমি তো কেবল দর্শকের চোখেই কুবরার খেলা দেখিনি, নির্বাচক হিসেবেও ওর পারফরম্যান্স দেখতে হয়েছে। তো এ ক্ষেত্রে আমি সন্তুষ্ট ওর ওপর। কারণ, দল নির্বাচনের সময় ওকে ১১ জনের মধ্যে রাখতে বেশি ভাবতে হয়নি। ওর পারফরম্যান্স সব সময় চোখে পড়ার মতোই ছিল। বিশেষ করে জাতীয় লিগগুলোর কথা যদি ধরেন, ও বরাবরই ভালো পারফরম্যান্স করে এসেছে নিয়মিতভাবে। তাই ওকে ‘অটোমেটিক চয়েস’ হিসেবে ধরে নেওয়া গেছে। দল বাছাইয়ের সময় বিশেষ কিছু শর্ত থাকে। কুবরা সব শর্ততেই উতড়ে গেছে সফলভাবে।
মহিলা ক্রিকেট তো কেবল শুরু হলো আমাদের দেশে। তাই মেয়ে ক্রিকেটার আমাদের হাতে গোনা। তার মধ্যেও কুবরা এবং অন্যরা খুব ভালো মানের ক্রিকেট খেলছে। উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কুবরার মতো মেয়ে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের কারণেই আজ অনেক মেয়ে ক্রিকেটে উৎসাহী হচ্ছে। এটা আমাদের আশাবাদী করছে। মহিলা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কুবরা সাত ম্যাচে নিয়েছিল মোট ১৮টি উইকেট। নিঃসন্দেহে মহিলা ক্রিকেটের বড় সম্পদ ও।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button
ভাষা নির্বাচন