নাগরিক সেবা

বিডি ক্লিন-বগুড়ার প্রতি শুক্রবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে

শুক্রবার সকাল ৯ টা ।বগুড়ার মেঘলা আকাশ থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে।
৩০-৪০ জনের একটি দল। তাদের সবাই তরুণ । বেশিরভাগের বয়স ১৬ থেকে ২৫ । সবার গায়ে লাল-সবুজ টি শার্ট। বৃষ্টিকে পাত্তা না দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে তাদের কেউ কেউ রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছেন, কেউ কেউ জমানো ময়লা ব্যাগে ভরছেন। ময়লার ব্যাগ সরিয়ে নেওয়ার কাজও করছেন কয়েকজন। কাজটা যেন খুব গোছানো হয় এর জন্য আছেন সমন্বয়ক, দলনেতাও। হাতমাইক নিয়ে একজনকে দেখা গেল সঞ্চালনায়। জানা গেল শহরের বিভিন্ন জায়গায় এ রকম কাজে প্রায়ই নাকি দেখা যায় এই তরুনদের।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “বিডি ক্লিন-বগুড়া” এর সদস্য তাঁরা। প্রতি শুক্রবার তাদের এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। শুধু সড়ক আর ফুটপাতই নয় স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠেও তারা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবেন। পাশাপাশি পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গণসংযোগ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও তারা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। “বিডি ক্লিন-বগুড়া” এর সমন্বয়ক ফেরদৌস সুমন। সহকারী হিসাবে আছে – নাইফ আহমেদ জিলহাজ, শুভ ইসলাম, মাহবুব আলম জিয়ন, আকবর আহমদ, কানিজ রেযা। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটির রেজিস্টার্ড সদস্য ৮০, আর গড় উপস্থিতি – ৪৫-৫০ । কেউ যেন এই শহরটিকে কোন ভাবে নোংরা না করে, তার জন্যও তারা সবাইকে অনুরোধ করেন, ফেসবুকেও চলে প্রচারনা। এর কাজে তরুনদের পাশাপাশি যুক্ত আছে তরুনীরাও। মা- বাবার অনুমতি নিয়ে তারাও প্রিয় নগরীকে পরিচ্ছন্ন করতে নেমেছে এই অভিযানে।

“বিডি ক্লিন-বগুড়া” এর যাত্রা শুরু ঢাকায় “বিডি ক্লিন” নামে। সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক ফরিদ উদ্দিন। তিনি জানান “২০১৬ সাল, ঢাকা শহরজুড়ে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন বসাল সিটি করপোরেশন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেগুলো ঠিক ভাবে ব্যবহার করছিল না। প্রচুর ডাস্টবিন থাকার পরেও সেগুলি ব্যবহার না করে মানুষ ময়লা ফেলছে রাস্তাখাটে, এখানে-সেখানে। এই অবহেলা, অসচেতনতা আমাকে খুবই পীড়া দিল। ভাবলাম, মানুষকে সচেতন করা উচিত। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেললেই শহরটা সুন্দর হয়। উৎকট গন্ধ থেকে বাঁচে পথচলতি মানুষ। পরিচিত কয়েকজনকে ডাকলেন। শাহবাগে বসে সবাই মিলে বুদ্ধি আঁটলেন দলেবলে কী করা যায়। নিজেরাই হাতে তুলে নিলেন ঝাড়ু। শুরু হলো পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। ২ জুন, ২০১৬ আমরা শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত রাস্তার পাশের ময়লা পরিষ্কার করেছিলাম।’ সেদিন ‘পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া ঢাকা ক্লিন সংগঠনটিই এখনকার বিডি ক্লিন। তাদেরকে দেখে পরবর্তীতে ঢাকার অন্যান্য এলাকার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষও অংশ হন এই অভিযানের । ধীরে ধীরে এ কার্যক্রম বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ৪৮টি জেলায় বিডি ক্লিনের ১৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবী রয়েছে।

এ জন্য তাঁরা কোনো প্রথমেই নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হন। সেখানকার ময়লা পরিষ্কার করেন। হাতমাইকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এই সচেতনতার কাজটি রাজধানী ঢাকা ও বগুড়া ছাড়াও সংগঠনটি বিডি ক্লিন-বরিশাল, বিডি ক্লিন-ময়মনসিংহ, বিডি ক্লিন-খুলনা, বিডি ক্লিন-গোপালগঞ্জ, বিডি ক্লিন-ফেনী, বিডি ক্লিন-নোয়াখালী, বিডি ক্লিন-টাঙ্গাইল, বিডি ক্লিন-চিটাগাং, বিডি ক্লিন-সিলেট নামে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে চলেছে। তাঁরা চেষ্টা করছেন দেশের সব কটি জেলায় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করতে। জীবাণুমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।এই কাজটি তাঁরা নিজেদের খরচেই করেন। কেউ হয়তো ১০০ টি-শার্ট বানিয়ে দিচ্ছেন, কেউবা আনছেন ঝাড়ু। এভাবেই চলেছে এগিয়ে পরিচ্ছন্নতা যাত্রা। বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকেরা চান সচেতনতার বার্তা নিয়ে সবার কাছে পৌঁছাতে। সবাই নিজের পরিচ্ছন্নতার নাগরিক দায়িত্বটুকু বুঝবে, মানবে । এটাই তাঁদের একমাত্র চাওয়া।

VOA Bangla

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button