জাতীয়বগুড়া সদর উপজেলা

বগুড়ায় তৈরি ডিজিটাল ওজন স্কেল যাবে চীন এবং ভারতে

নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের ওজন নিরুপণ করার জন্য দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারার পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির এক অসাধারণ ডিজিটাল স্কেল। যন্ত্রটির বাজার দীর্ঘ সময় ধরে চীন, কোরিয়া, ভারত ও তাইওয়ানের দখলে থাকলেও বর্তমানে তৈরি করা হচ্ছে দেশেই। আর সেই কাজটি করছে বগুড়ার শোভা অ্যাডভান্সড টেকনোলোজিস লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন

বগুড়ার শোভা এ্যাডভান্সড টেকনোলজিস লিমিটেডের তৈরি সুমো ডিজিটাল ওজন স্কেল সাড়া জাগিয়েছে। বগুড়া ও আশপাশের জেলার চাহিদা মিটিয়ে সুমো ডিজিটাল ওজন স্কেল দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। চলছে বিদেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া। সব ঠিক থাকলে শিগগিরই চীন ও ভারতে রপ্তানি করা হবে। বিদেশি স্কেলের চেয়ে দাম কম ও মান ভালো হওয়ায় সুমো ডিজিটাল ওজন স্কেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে

বিজ্ঞাপন

বগুড়ার মালতিনগর এলাকায় ‘সুমো ডিজিটাল স্কেল’ নামে যন্ত্রটির মাধ্যমে ওজন নিরুপণ করার কাজ শুরু করেছে শোভা অ্যাডভান্সড টেকনোলোজিস। এ কারখানায় বছরে প্রায় গড়ে ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল স্কেল তৈরি করা হচ্ছে, যা পুরো দেশে ব্যাপক ভাবে বিস্তার লাভ করছে। এ কারখানায় মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ২০০ নারী-পুরুষের। যেসব স্কেল তৈরি করা হয়ঃ শোভা অ্যাডভান্সড টেকনোলোজিসের কারখানায় দিনে গড়ে প্রায় ২০ রকমের ১০০টি ডিজিটাল স্কেল তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা টেবিল টপ স্কেল ও হেভি ডিউটি স্কেলের। খুচরা চাল-ডাল, মাংস, শাক-সবজি,মনিহারি,মিষ্টি, ধান,গম, প্যাকেজিং কারখানা সহ বিভিন্ন দোকান গুলোতে টেবিল টপ স্কেল ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ধারণ ক্ষমতা ১ গ্রাম থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত এবং বাজার মূল্যে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা হয়ে থাকে। রড, চালকল,স্টিল, কোল্ডস্টোরেজ, ময়দা কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় লৌহ জাতীয় পণ্য ওজন পরিমাপের জন্য হেভি ডিউটি স্কেল তৈরি করা হয় এই কারখানাতে। স্কেলটির ধারণক্ষমতা ৫০০ কেজি থেকে ৫ টন পর্যন্ত।

বগুড়ার সুমো ডিজিটাল ওজন স্কেল তৈরির প্রতিষ্ঠান শোভা এ্যাডভান্সড টেকনোলজিস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আহম্মেদ কিরন জানান, বিএসটিআইর সহযোগিতায় প্রতিটি মেশিন ক্যালিব্রেশন শেষে বাজারজাত করা হয়। ভারত থেকে লোডসেল ও কিছু সরঞ্জাম ছাড়া সব কিছুই দেশীয় প্রযুক্তিতে স্কেল তৈরি হচ্ছে। রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও তাদের তৈরি বড় বড় ওজন স্কেল ব্যবহার হচ্ছে। ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় দিলে যে কোনো ধরনের স্কেল তৈরি করার মতো জনবল রয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আমদানি না করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহ দিলে ডিজিটাল ওজন স্কেলের আরও বিস্তৃতি হবে। চীন ও ভারতের কয়েকজন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সব ঠিক থাকলে শিগগিরই রপ্তানি করা হবে। ইতিমধ্যে কিছু কিছু স্কেল হাতে হাতে বিদেশের বাজারে দেওয়া হয়েছে। বাজার যাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে চীনেও ।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button