মুক্তিযুদ্ধ বগুড়াশাজাহানপুর উপজেলা

ইতিহাসের কালো অধ্যায় বগুড়ার বাবুর পুকুরের গণহত্যা

বগুড়া লাইভঃ বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বাবুর পুকুরে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধের পেছনে রয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনা।
১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর সদস্যদের হাতে বাবুর পুকুরে ১৪ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ সালে পাক সেনারা বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে নিয়ে যায় শাহজাহানপুর উপজেলার বাবুর পুকুরে এবং সেখানে এক সাথে ১৪ জনকে গুলি করে হত্যা করে।

বিজ্ঞাপন

বধ্যভূমিতে শহীদদের স্মৃতিরক্ষায় একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হলেও আজো তাদের শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি।

দিনটি ছিল ২১ রমজান। ঘরে ঘরে সাহেরী খাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। শান্তি কমিটির সহযোগিতায় পাক সেনারা বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়ার শাহ পাড়া, ম-ল পাড়া, তেঁতুলতলা, হাজীপাড়া ও পশারী পাড়ায় হানা দেয়। তারা বিভিন্ন বাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে ২১ জনকে ধরে নিয়ে যায়। পরে বগুড়া-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে শাহজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের বাবুর পুকুর এলাকায় নিয়ে যায়।

এবং তাদের মধ্য ১৪ জনকে হাত ও চোখ বেঁধে ব্রাসফায়ার করে হত্যা করা হয়। এই ১৪ জনের মধ্য একজন ছিলেন অজ্ঞাতনামা। ব্রাস্ফায়ার এর ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত-মাংস ছিন্নভিন্ন হয়ে গাছের ডালে ডালে ঝুলতে থাকে। এবং ওই ১৪ জনকে সেখানেই কবর দেয়া হয়।

১৯৭৯ সালে বগুড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বাবুর পুকুরের কবরগুলো পাকা করে দেয়া হয়। বগুড়া জেলা পরিষদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণে ২০১০ সালে সেখানে দৃষ্টিনন্দন একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে। এবং সেখানে একটি বেদি নির্মাণ করে পাড় বেঁধে দেয়া হয়।

যে ১৪ জন শহীদ হন তাদের নাম যথাক্রমেঃ
১। হান্নান পশারী
২। মান্নান পশারী
৩। ওয়াজেদুর রহমান টুকু
৪। জামাল ম-ল
৫। মন্টু ম-ল
৬। আব্দুস সবুর ভোলা ম-ল
৭। সাইফুল ইসলাম
৮। আলতাফ আলী
৯। বাদশা শেখ
১০। বাচ্চু শেখ
১১। ফজলুল হক খান
১২। নূর জাহান
১৩। আবুল হোসেন
১৪। অজ্ঞাতনামা একজন।

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এছাড়াও প্রতিটি পরিবারকে দুই হাজার টাকা করে ভাতা দেন। ১৪ শহীদের মধ্যে হান্নান, মান্নান ও সাইফুল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মর্যাদা পেলেও স্বাধীনতা অর্জনের ৪৬ বছর পার হল কিন্তু অন্য ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার কোন মর্যাদা পাননি। বগুড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়ও নাম নেই তাদের।

একটি সূত্রে জানা যায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কেউ শহীদ পরিবারের খবর রাখে না। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে শুধু শহীদ পরিবারের কোনো কোনো সদস্যকে ডাকা হয়। একটি শাড়ি কিংবা অন্যকিছু উপহার দেয়া হয়।

প্রতিদিন এই স্মৃতিসৌধ দেখার জন্য সেখানে বহু দর্শনার্থী

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button