জাতীয়

মাদকের কবলে বগুড়া

মাদকের হাট বগুড়া

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান আসে বগুড়ায়। এখান থেকে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত পথে ফেনসিডিল ও হেরোইন আসে বগুড়ায়।

বিজ্ঞাপন

বগুড়া শহরে মাদক স্পট (বিক্রির স্থান) অন্তত ৩৫টি। আর মাদক কারবারি অর্ধশত। ট্রেনযোগে আসা ইয়াবার চালান বগুড়া স্টেশনের পাশে চিহ্নিত কয়েকটি বাসাবাড়িতে রাখা হয়। এর মধ্যে হাড্ডিপট্টি, চকসূত্রাপুর, সুইপারপট্টি, সেওজগাড়ি উল্লেখযোগ্য। যাত্রীবাহী বাসে আসা ইয়াবার চালান বনানী মোড়, মাটিডালি, চেলোপাড়া, বাসস্ট্যান্ড, নাড়ুলি, সান্দারপট্টি, দত্তবাড়িসহ বেশ কয়েকটি স্পটে রাখা হয়। জেলার শীর্ষ ইয়াবা সরবরাহকারী শহরের নামাজগড় সুলতানগঞ্জ পাড়ার দীপ্তি। তাকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

ফেনসিডিলের বেশির ভাগ চালান সরবরাহ করে জয়পুরহাটের শাহাদত। বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থেকে সে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে। সম্প্রতি শাহাদতের মাইক্রোবাস বোঝাই ফেনসিডিল আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। কিন্তু মামলায় তার নামের সঙ্গে সঙ্গে আটক মাদকের মালিক (শীর্ষ কারবারি) রজবের নামও বাদ দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সামান্য কিছু আলামতসহ খুচরা মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হলেও বড় কারবারিরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের চকসূত্রাপুর, জহুরুলনগর, বাদুড়তলা ও হাড্ডিপট্টি মাদক বিক্রির নিরাপদ এলাকা। এসব এলাকায় মাদক কারবারিদের বেশির ভাগ পেশাদার। বিভিন্ন সময় এরা গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অল্প সময় জেলে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে আগের পেশায় ফিরেছে। আগে চকসূত্রাপুরে প্রতিদিন দুই কোটি টাকার মাদক বাণিজ্য হতো।

শহরের মাদক স্পট চকসূত্রাপুর ও বাদুড়তলায় ফেনসিডিল এবং ইয়াবা বিক্রি করে টুকুর মেয়ে মলি। চকসূত্রাপুর হাড্ডিপট্টি ও বাদুড়তলার ফেনসিডিলের সবচেয়ে বড় কারবারি এজেদা পাগলি ও তার পরিবারের সদস্যরা। এখানে ডালায় করে বিক্রি হয় ফেনসিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট। একই চক্রে আছে এজেদার ভাই একরাম ও তার পরিবারের সদস্যরা, হান্নানের স্ত্রী এবং কালার স্ত্রী সালমা। বাদুড়তলায় মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে সাবানা, তার বোন সাবিনাসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা।

বগুড়া পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে বগুড়া জেলায় মাদকের মামলা হয়েছে দুই হাজার ৫১১টি। মাদকের সঙ্গে জড়িত এমন গ্রেপ্তার হয়েছে তিন হাজার ১৪৭ জন। এ ছাড়া এক লাখ আট হাজার ৫২৬ পিস ইয়াবা, ৯ হাজার ২৬৮ বোতল ফেনসিডিল, ৫৭৮ কেজি গাঁজা ও সাড়ে তিন কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।

বগুড়া অ্যান্টিড্রাগস সোসাইটি (ব্যাডস) নামের একটি প্রতিষ্ঠান শহরের ৬৫৪ জন মাদকসেবীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখে, ১৩ থেকে ৩০ বছর বয়সী মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ। একজন মাদকসেবী প্রতিদিন নেশায় ১৬৮ টাকা ব্যয় করে। ২১ শতাংশ মাদকসেবীর অর্থ জোগান দেন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের স্থানীয় পরিদর্শক মো. শাহজালাল বলেন, ‘আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এর পরও নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। মামলা করছি।’

পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আশরাফ বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। বগুড়াকে মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ মাদক কারবারিদের আগের তালিকার সঙ্গে নতুন যারা এই অপকর্মে যুক্ত হয়েছে তাদের নিয়ে কাজ করছে। সারা জেলায় এই সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাবে।’

_লিমন বাসার (কালের কণ্ঠ)

 

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button