জাতীয়

উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার দ্রুত যোগাযোগে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণ কাজ চলতি বছর শুরু হচ্ছে

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ কাজ এ বছরই শুরু

উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার দ্রুত যোগাযোগে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ কাজ চলতি বছর শুরু হচ্ছে। রেলপথ বিভাগের উর্ধতন সূত্র জানায়, এই রেলপথে পূর্বের প্রস্তাবিত ৭২ কিলোমিটার রেললাইনের স্থলে বর্তমানে ৮৪ কিলোমিটার রেলপথ, একটি রেল জংশন ও পাঁচটি নতুন রেলস্টেশন নির্মাণ করা হবে। ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। প্রকল্পটি এ বছর জুন মাসের মধ্যেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য রেলপথের নক্সা তৈরি, স্টেশনের সংখ্যা নির্ধারণসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষ হয়েছে। এগুলো ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইলে (ডিপিপি) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একনেকে এই ডিপিপি উত্থাপিত হবে।

বিজ্ঞাপন

এই রেলপথ নির্মাণে বগুড়া সীমানায় ৫২ কিলোমিটার রেললাইনের জন্য ৫১০ একর ভূমি এবং সিরাজগঞ্জ সীমানায় ৩২ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৪শ’ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট ৯৬০ একর ভূমির মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। একনেক বৈঠকে প্রকল্প অনুমেদিত হওয়ার পরই জেলা প্রশাসকগণের কাছে রেললাইনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে এভাবে বগুড়া রেল স্টেশন থেকে আড়াই কিলোমিটার পশ্চিমে ছোট বেলাইল এলাকা থেকে সিরাজগঞ্জের এম মনসুর আলী রেল স্টেশন পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার।

বিজ্ঞাপন

বগুড়ার পশ্চিমের কাহালু রেল স্টেশন থেকে রানীরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার। পরবর্তী ১২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের যৌক্তিকতা হলো : সান্তাহার থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া সান্তাহার হয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুরগামী ট্রেনগুলো যাতে বগুড়া স্টেশন এড়িয়ে সরাসরি চলাচল করতে পারে সেজন্য কাহালু-রানীরহাট রেললাইন নর্মিত হবে। এই দুই রেলপথ মিলিত হওয়ার কারণে বগুড়ানগরী থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে রানীরহাটে একটি রেল জংশন নির্মিত হবে। নতুন এই রেলপথের বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত পাঁচটি পয়েন্টে নতুন রেল স্টেশন নির্মিত হবে। এগুলো হলো : শেরপুর, চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, কিষানদিয়া ও সদানন্দপুর। নতুন এই পথে সর্বাধুনিক সিগনালিং ব্যবস্থা, রেল সেতু, রেল ক্রসিং থাকবে।

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। উত্তরঙ্গের ট্রেনগুলো সান্তাহার, নাটোর, ঈশ্বরদী হয়ে ঢাকা চলাচল করে। মোট দূরত্ব দাঁড়ায় ৪শ’ থেকে ৪৫০ কিলোমটার। এর মধ্যে প্রায় দেড়শ’ কিলোমিটার ঘুরপথ। সময় লাগে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। নতুন রেলপথ নির্মিত হলে দূরত্ব ও সময় অনেক কমে যাবে।

সমুদ্র হক

 

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button