বগুড়া সদর উপজেলা

মানুষের দ্বারে দ্বারে নব্বই বছরের বৃদ্ধ রইচ উদ্দিন!

বগুড়া লাইভ:  নব্বই বছরের বৃদ্ধ রইচ উদ্দিন ফকির। বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোড় ইউনিয়নের কইচর গ্রামে মাত্র ৩ শতক জায়গার উপর নির্মিত মাটির ঘরে একমাত্র স্ত্রীকে বসবাস তার। বাবা আবু ফকির অনেক আগেই মারা গেছেন। বয়সকালে তিনি দিন মুজুরের কাজ করতেন। টানাটানির মধ্য দিয়ে চলে বুড়ো-বুড়ির সংসার। সংসারে উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলে গফফার কিছু দিন আগে পেট ব্যাথা জনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃদ্ধ বাবা ছেলের চিকিৎসা বাবদ অনেক টাকা খরচ হয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। ছেলেকে বাঁচাতে মানুষের কাছে হাত পেতে টাকা সংগ্রহ শুরু করে সে। সেই টাকা দিয়ে চিকিৎসা শুরু করে। তবুও যদি বেঁচে থাকে তার সাত রাজার ধন। কিন্তু গত ১০ দিন আগে না ফেরার দেশে চলে যায় বৃদ্ধের একমাত্র ছেলে গফফার।

কলিজার টুকরো ছেলেকে দাফন-কাফন করার মত সামর্থ নেই তার। কাফনের কাপড় টুকু অন্যের কাছে থেকে টাকা ধার করে কিনতে হয়েছে। একজন বাবার পক্ষে এটা কতটা কষ্টকর হতে পারে সেটা বলে বুঝানো যাবে না। বৃদ্ধ রইচ উদ্দিন ভাল করে হাটতে পারে না। শুকিয়ে কঙ্গকাল বের হয়ে গেছে। চোখে ঝাঁপছা দেখে। ছেড়া ছুটো একটি জামা ও লুঙ্গী পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কয়েকদিন আগে টিনের সাথে পা কেটে গেছে সেখানা পুড়ানো কাপড় বেঁধে রেখেছে। মুখে একটাও দাঁত নেই। সব মিলিয়ে যায় যায় অবস্থা তার।

ছেলে নেই তাই পেট চালানোর তাগিদে প্রতিদিন ফজর নামাজ পড়ে বের হন রইচ উদ্দিন। ৬ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে আসেন শহরে সাতমাথা মোড়ে। এই এলাকার গলিতে গলতি ঘুরে যা পান (১শ-২শ টাকা) সেটা নিয়ে তিনটার দিকে বাড়ি ফেরেন তিনি। এটা তার প্রত্যেহ রুটিন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার জন্য একটি রিলিফের কার্ড করে দিয়েছে। সেখান থেকে কিছু চাউল পায় যা দিয়ে দুজনের সারা মাসের খাবার হয় না।

সাতমাথা থেকে সিএনজি যোগে ৬ কিমি গেলে কইচর বাজার। সেখান থেকে দক্ষিণ দিকে ৫ মিনিট হাটলে রাস্তার ধারে উনার বাড়ি। রইচের বাড়ি যাবো বললেই সবাই দেখিয়ে দেবে।

লেখা: তানিম তুর্য
সন্ধানকারী: সুমাইয়া জান্নাত

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button