যশোরের নিঃসন্তান দম্পতির শত শত শিশুর মা-বাবা

শত শত শিশুর মা-বাবা যশোরের নিঃসন্তান দম্পতি নিজেদের সন্তান নেই। তাতে কী আসে-যায়! এলাকার গরিব-অসহায় শিশুরাই আমাদের সন্তান। অভাবী, ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষা দিয়ে প্রকৃত মানুষ তৈরি করার মাধ্যমে নিজেদের শত শত শিশুর মা-বাবা হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। কথাগুলো মাগুরার প্রত্যন্ত গ্রামে দুই দশক ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসা সদর উপজেলার বগুড়া গ্রামের নিঃসন্তান দম্পতি নওশের আলম ও মাহমুদা আলমের। জানা গেছে, নিঃসন্তান এই দম্পতি দুই দশক ধরে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের সন্তান না থাকার অপূর্ণতাকে পিছনে ফেলে ‘বগুড়া আদর্শ শিশু বিকাশ কিন্ডারগার্টেন’ নামে স্কুল গড়ে তোলেন তারা। 

১৯৯৮ সালে ১২ শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু; বর্তমানে এ সংখ্যা ৭৫। এসব শিক্ষার্থীর সবাই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। অন্যের সন্তানকেই নিজেদের সন্তান মনে করে শিক্ষা দিয়ে চলেছে নওশের-মাহমুদা দম্পতি। নওশের ও মাহমুদার এ মহৎ উদ্যোগে স্বেচ্ছায় সঙ্গী হয়েছেন স্থানীয় আরও কয়েকজন। তাদের একজন পার্শ্ববর্তী এলাকার ফুলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক কাজী আসাদুজ্জামান। বর্তমানে তিনি কিন্ডারগার্টেনটির প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘নওশের ও মাহমুদাই এ স্কুলের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেন। তাদের ত্যাগে উৎসাহিত হয়ে ফুলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আমরা পাঁচ শিক্ষক মিলে স্বেচ্ছায় তাদের স্কুলে পড়াই। তারপরও তারা বিভিন্ন উৎসবে আমাদের উপহার দিয়ে সম্মানিত করেন।’ 

মাহমুদা আলম বলেন, এক সময় সন্তান না হওয়ার কারণে কষ্ট পেতাম। কিন্তু এ স্কুলের মাধ্যমে আমরা শত শিশুর মা-বাবা হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। নওশের-মাহমুদা দম্পতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেন এভাবে ‘আমাদের বয়স হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা থাকব না। আমাদের স্কুলটি যেন টিকে থাকে। নিজেদের সাধ্যমতো টিনের ছাউনি আর চাটাইয়ের বেড়ার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ইটের তৈরি কোনো দালান করা আমাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবকাঠামোগত উন্নয়নে এগিয়ে এলে তাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। স্থানীয়রা জানান, নওশের-মাহমুদা দম্পতি সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি অতিদরিদ্র পরিবারের দুই কন্যাসন্তানকে নিজেদের পরিচয়ে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button