করোনা আপডেট

বগুড়াতে করোনায় ছয় মাসে ২শ জনের মৃত্যু

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ইসরাজুল হক নামে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ছয় মাসে মোট ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বগুড়ায় গেল ১ এপ্রিল প্রথম একজনের দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মেল। তার পর থেকে ২০ নভেম্বর নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৮ হাজার ৫৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯২ দশমিক ১৮ শতাংশ বা ৭ হাজার ৮৬৩ জন সুস্থ হয়েছেন। তবে মৃত্যুর হার গিয়ে ঠেকেছে ২ দশমিক ৩৪ শতাংশে।

বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৬ মাস আগে গত ২২ মে রাতে সাবেক সাংসদ কামরুন নাহার পুতুল মারা যান। ওই মাসে আরও কেউ মারা না গেলেও পরবর্তী জুন মাস থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে এবং তা আগস্ট মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। জুন মাসে বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়। এরপর জুলাই ও আগস্ট মাসে ৫২ জন করে আরও ১০৪ জন মারা যান। অর্থাৎ ওই তিন মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ১৫৫ মানুষের মৃত্যু হয়। যা এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, জুন মাসে করোনায় আক্রান্তের হারও ছিল সর্বোচ্চ প্রায় ৬০ শতাংশ। এমনকি আক্রান্তদের মধ্যে ২১ জুন একদিনে সর্বোচ্চ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। তবে সেপ্টেম্বর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করে। ওই মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট ২৭ জন মারা যান। এরপর অক্টোবর মাসে ১০ জন এবং ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পরীক্ষা বিবেচনায় গেল অক্টোবর মাসে করোনার সংক্রমণ কম ছিল। ১ অক্টোবর ১১৫টি নমুনা পরীক্ষায় মাত্র ৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মেলে। অর্থাৎ আক্রান্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৩৪। অবশ্য নভেম্বরের শুরু থেকে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। সর্বশেষ গত ২০ নভেম্বর পরীক্ষা বিবেচনায় আক্রান্তের হার ছিল ২৬ দশমিক ২১। ওইদিন ১০৩টি নমুনা পরীক্ষায় ২৭ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জেলায় করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মাস্ক পরা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা- করোনার শুরুতে এগুলো অনেকে রীতিমত অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে ওই অভ্যাসগুলো মানুষ ভুলতে বসেছে বা অবহেলা করছে। ফলে করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। তিনি সকলকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি আবারও খারাপের দিকে যেতে পারে- যার লক্ষণ এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। অতএব, করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতেহলে আমাদেরকে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেন চলতেই হবে।’

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button
error: Content is protected !!