বগুড়ায় থাকা

কয়েক দফা বন্যায় বগুড়ার কৃষকের ৯২ কোটি টাকা ক্ষতি

বগুড়ায় কয়েক দফা বন্যায় কৃষকের ৯২ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এবার অতিবৃষ্টি ও চার দফা বন্যায় ৬৫ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ১০ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ৮ হাজার ২৩৯ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল বিনষ্ট হয়েছে।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী টাকার অংকে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পরিমান ৯২ কোটি টাকা। বগুড়ায় গত জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বন্যা হয়েছে চার দফা। বাঙ্গালী ও যমুনা নদী বেস্টিত সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলা বন্যা প্রবণ এলাকা। এ ছাড়াও শেরপুর, গাবতলী ও শিবগঞ্জের আংশিক এলাকায় বন্যা হয়ে থাকে প্রতিবছর।

চলতি মৌসুমের প্রথম আগাম বন্যা দেখা দেয় জুন মাসের ২০ তারিখ থেকে এবং স্থায়ী থাকে জুলাই এর ৬ তারিখ পর্যন্ত। প্রথম দফা বন্যার রেশ কেটে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় দফা বন্যা শুরু হয়। জুলাই মাসের ১২ তারিখ থেকে দ্বিতীয় দফা বন্যা শুরু হয়ে প্রায় ১০ দিন স্থায়ী থাকে। এরপর আগস্ট মাসের ৬ তারিখ থেকে পুনরায় তৃতীয় দফা বন্যা শুরু হয়। এ দফা বন্যা প্রায় দুই সপ্তাহ স্থায়ী হয়। তয় দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে ছিল আউশ ধান, পাট, সবজি, আমন বীজতলা, মরিচ, ভূট্রা সহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত।

সর্বশেষ চতুর্থ দফা বন্যায় জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট, শেরপুর, গাবতলী, শাজাহানপুর, আদমদিঘী, শিবগঞ্জ, বগুড়া সদর ও নন্দীগ্রাম উপজেলা। এসব উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে মাসকলাই, সবজি, মরিচ, রোপা আমনসহ ভিন্ন সবজি ও কলা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক দুলাল হোসেন বলেন, এ বছর জেলায় ৪ দফা বন্যায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ১২০০ কৃষকের মাঝে প্রনোদনা হিসেবে এক বিঘা জমিতে চাষ করার জন্য মাসকলাই বীজ ও সার, ৩ হাজার কৃষকের প্রত্যেককে ১০ শতাংশ জমিতে স্বল্প ও মধ্য মেয়াদী সবজি বীজ, ৮০ জন কৃষককে ১ বিঘা জমিতে চাষের জন্য ট্রে-কমিউনিটি বীজতলা প্রদান ও ৩ হাজার ৩৩৩ জন কৃষককে কমিউনিটি বীজতলা প্রদান করা হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button
error: Content is protected !!