লাইফস্টাইল

শিশুদেরকে রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য যা যা শেখাতে পারেন

একেক বয়সে বাচ্চারা একেক কারণে রাগ করে। খেলনা চেয়ে না পেলে রাগ করে এক বয়সে। এক বয়সে ক্লাসমেটের সাথে ঝগড়া করে বাসায় এসে রাগ করে শুয়ে থাকে। কেউ কেউ আছে বাসায় অপছন্দের খাবার রান্না হলেও রাগ করে। মনোযোগ কম পেলেও রাগ প্রকাশ করে শিশুরা।

চাইলেই সন্তানের এসব রাগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা যায়। কিন্তু কীভাবে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখাবেন আপনার শিশুকে?

#১. অনুভূতি ও নাম
বয়স অল্প থাকতেই নানান অনুভূতির নাম শেখাতে পারেন বাচ্চাদের। কোনো অনুভূতির নাম জানা থাকলে সেই অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ বাচ্চাদের জন্য সহজ হয়।

#২. অন্যের পরিস্থিতিতে নিজেকে কল্পনা
শিশুদের মনে করিয়ে দিতে পারেন যে তাদের থেকেও খারাপ পরিস্থিতিতে থাকতে হচ্ছে অনেক বাচ্চাকে। তারা অন্যদের তুলনায় ভালো আছে। এই বোধ তাদেরকে প্রাপ্য বস্তুতে সন্তুষ্ট থাকতে শেখাবে।

#৩. বাচ্চার রাগের কারণ বিবেচনা করা
শিশুর আচরণের পেছনে কী কারণ তা আলাপের মাধ্যমে খুঁজে বের করুন। তার কোনো সহপাঠী বিব্রত করছে তাকে, নাকি সে কোনো কিছুকে ভুল ভাবে বিচার করছে। সঠিক কারণ জানা থাকলে শিশুর প্রতি করণীয় বোঝাটা সহজ হবে আপনার জন্য।

#৪. নিজেকে শান্ত করার কৌশল চর্চা
শিশুদেরকে পছন্দের গান বা গল্পের কথা বলে শান্ত করা যায়। তবে একটু বড় হলে পরে অন্যান্য কৌশল শেখানে পারেন। যেমন, বড় করে শ্বাস নেয়া, কল্পনা বা মেডিটেশন করা এসব শেখাতে পারেন। চোখ বন্ধ করে পছন্দের জায়গা ঘটনার কথা ভাববে। তারপর গভীর ভাবে শ্বাস নিতে নিতে মন শান্ত করে এমন শব্দ বা বাক্য মনে মনে উচ্চারণ করতে থাকবে।

#৫. সব পরিস্থিতিকেই ভিন্ন চোখে দেখতে শেখান
দীর্ঘ সময় অস্বস্তি বা খারাপ লাগার মধ্য দিয়ে যেতে থাকলে বাচ্চারা খিটখিটে হয়ে যায়। তাদেরকে বোঝাতে পারেন, পৃথিবীর সব কিছুই খারাপ না, পৃথিবীতে সুন্দর আছে। সেসবের উদাহরণগুলির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন শিশুদের।

#৬. বিকল্প খুঁজতে শেখান
সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়াতে কী করা প্রয়োজন এই প্রশ্ন তাদেরকে করতে শেখান। কারো সাথে দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধ থাকলে কীভাবে সমঝোতা করা যাবে তা বোঝান, প্রয়োজনে সন্তানকে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিন। বয়স অল্প থাকা অবস্থায় এই শুরু চর্চা করলে ভবিষ্যতে উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা অনেকটাই কম হবে।

#৭. কমিউনিকেশন স্কিলে মনোযোগী হওয়া
রাগের উৎস সম্পর্কে সন্তানদের সাথে কথা বলুন। হতাশা ও অসন্তোষ থেকেই শিশুদের মধ্যে রাগের সৃষ্টি হয়। স্কুলের কোনো কঠিন বিষয় বা গুণ আয়ত্ত করতে না পারা, আত্মসম্মান বিষয়ক সমস্যা বা সহপাঠীদের সাথে মিশতে না পারা থেকে রাগ হতে পারে। এক্ষেত্রে স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করা, বিভিন্ন বিষয় কীভাবে কাজ করে তা বুঝিয়ে দেয়া কিংবা অন্যের সাথে মেশার উপায় শেখানোর মাধ্যমে আপনি তাদের সাহায্য করতে পারেন।

#৮. সরিয়ে আনুন
কোনো টাইম আউট পরিস্থিতি শেখার উৎস না। তখন সন্তানকে আপনি নিজে সাহায্য করুন। তাদেরকে ওই মানসিক যন্ত্রণা থেকে বের করে আনুন। সন্তানরা বড় হলে, কীভাবে নিজেকে জটিল পরিস্থিতি থেকে সরিয়ে আনবে তা শেখান। কোনো ইমেইল অথবা টেক্সট পাঠানোর আগে অপেক্ষা করে পাঠাতে বলুন। আপনার সন্তান অসুস্থ, ক্লান্ত কিংবা মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে রেগে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সম্ভব হলে এই সময়গুলিতে তার পাশে থাকুন।

#৯. সহানুভূতিশীল হতে উৎসাহিত করুন
ছোট বাচ্চারাও অন্য কারো রাগ বা দুঃখ বুঝতে পারে। তারা যদি কোনো বিষয়ে কথা বলতে না চায়, তাহলে তাদের প্রিয় কোনো চরিত্রকে ওই ধরনের সমস্যায় ফেলে তাকে সেই গল্প বলতে পারেন। তারপর তাকে প্রশ্ন করুন। ঘটনার নানা দিক দেখতে সাহায্য করুন। জিজ্ঞেস করুন এই পরিস্থিতিতে এই চরিত্রগুলির কী করা উচিৎ বলে তার মনে হয়।

#১০. আলিঙ্গন ও প্রশংসার ব্যাপারে উদার হওয়া
একটা মৃদু ও আন্তরিক স্পর্শ কঠিন পরিস্থিতিতেও প্রশান্তি এনে দিতে পারে। উপযুক্ত সময়ে দেয়া একটা আলিঙ্গন ঈর্ষা ও হতাশা দূর করতে পারে। সন্তানকে কেবলই অর্জনের জন্য প্রশংসা না করে তার সব প্রচেষ্টার জন্য বাহবা দিন। তার শক্তি ও সামর্থ্যের কথা মনে করিয়ে দিন। সঙ্গে আপনার জীবনের ব্যর্থতার গল্পগুলিও বলুন। এতে সে ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে শিখবে।

#১১. ব্যায়ামে উৎসাহিত করুন
নেতিবাচক অনুভূতি কিংবা একঘেয়েমি অনুভূতি দূর করতে ব্যায়াম খুব কার্যকর। বাচ্চাদের বয়স অনুসারে এক্সারসাইজ করান। একদম ছোট হলে চক দিয়ে মেঝেতে ঘর কেটে গুনতেও শেখাতে পারেন। তাছাড়া জাম্পিং, দৌড়ানো এসব খেলার মাধ্যমেও এক্সারসাইজ শুরু করাতে পারেন। চাইলে ইয়োগাতেও দিতে পারেন।

#১২. নিজেকে দেখা
রেগে গেলে সন্তানকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখতে বলুন৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাবে, এই চিত্রটা তার ভালো লাগবে না। ফলে রাগ কমে আসবে। কথিত আছে, টেনিস কোর্টে নিজের রেগে যাওয়ার ভিডিও দেখেই বিশ্বখ্যাত রজার ফেদেরার তার এই ধরনের আচরণ করা বন্ধ করে দেন।

#১৩. সন্তানের রোল মডেল হয়ে ওঠা
নিজের রাগ সম্পর্কে সচেতন হোন। বাবা মায়ের আচরণ সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে। আপনার যদি মনে হয় আপনি খুব একটা রাগ দেখান না, তাহলে ঠিক বিরক্তি প্রকাশ করেন বা অন্যভাবে রাগ দেখান তা লক্ষ্য করুন। কোন জিনিসগুলি আপনাকে রাগান্বিত করে এবং কীভাবে আপনি তার প্রতিক্রিয়া দেখান তা খেয়াল করুন।

রাগ দৈনন্দিন জীবনের একটা অংশমাত্র। তবে তা থেকে অনেক গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়। কোনো শিক্ষক যদি আপনাকে জানায় আপনার সন্তানের রাগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে বা সে অতিরিক্ত রাগ দেখায়, তা নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই পদক্ষেপ নিন। দরকার হলে প্রফেশনালদের সাহায্য নিন।

Back to top button