বগুড়া সদর উপজেলাসারাদেশ

বগুড়ায় শর্তসাপেক্ষে মুক্তি মিলবে ১৭৯ কয়েদীর

কারাগারটির ধারণ ক্ষমতা ৭২০ জন কিন্তু বন্দি ২ হাজার ১৩৩

বর্তমান নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বগুড়ার জেলা কারাগারে শর্তসাপেক্ষে থাকা ১৭৯ জন কয়েদীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তালিকা প্রস্তুত করেছে জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। এ জন্য তিন ডেপুটি জেলারের নেতৃত্বে ৭ সদস্যর কমিটি করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর থেকে বগুড়া জেলা কারাগারে গত ১ ও ২ এপ্রিল পৃথক দুইটি চিঠি পাঠানো হয়। পাঠানো দুটি চিঠিতে বলা হয়েছে, যাদের অল্প সাজা অর্থাৎ এক বছরের কম বাকি আছে, লঘু অপরাধ, যারা অচল, অক্ষম বা বৃদ্ধ- এরকম বন্দিদের তালিকা তৈরী করতে হবে। 

জেলা কারাগারের জেলার শরিফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কারাগার থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫৯ জন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জনের তালিকা ঊর্ধ্বতন মহলে পাঠানো হয়েছে।

সেইসাথে, সরকার কিছু সংখ্যক সাজাপ্রাপ্ত আসামির শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার জন্য তালিকা প্রস্তুত করতে জেলা কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। এক বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত নয়- এমন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত যারা ইতোমধ্যে ২০ বছর কারাভোগ করেছেন, তাদের দণ্ড মওকুফ করার বিষয়ে সরকার ভাবছে।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে কয়েদীদের কারাগার থেকে স্বজনদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা কারাগারের সূত্র জানায়, বগুড়া জেলা কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ৭২০ জন। সেখানে গত শুক্রবার পর্যন্ত বন্দি রয়েছে ২ হাজার ১৩৩ জন।

১৩১ বছর আগে নির্মিত কারাগারটিতে বর্তমানে বন্দি (হাজতি ও কয়েদি) রয়েছেন প্রায় তিনগুণ। কিন্তু জনবল ও অবকাঠামো সেই আগের মতোই আছে। ধারণ ক্ষমতার বেশি বন্দি থাকায় করোনা ঝুঁকি এড়াতে সরকার কিছু বন্দি মুক্তি দেবার চিন্তা ভাবনা করছে। এ ধারাবাহিকতায় বগুড়া জেলা কারাগারে ১৫৯ জন বন্দির একটি তালিকা তৈরী করে নির্দেশনা মতো কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী নির্দেশনা পেলে উল্লেখিত সংখ্যক বন্দির মুক্তি মিলবে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশার সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, কয়েদীদের তালিকা প্রস্তুত করার অর্থ এই নয় যে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তালিকা তৈরি করে রাখা হচ্ছে। যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ আসে, তখন মুক্তির বিষয়টি দেখা যাবে।

যাবজ্জীবনদণ্ডপ্রাপ্ত যারা আছেন, তাদের বয়স ও আচরণ বিবেচনা করে মুক্তি দেওয়া হয়। এটি কারাগারের রুটিন ওয়ার্ক বলে জানান তিনি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button
error: Content is protected !!