করোনা আপডেটস্বাস্থ্য

বগুড়ায় আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত

আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকা থেকে ট্রাক যোগে নিজ বাড়ি রংপুরের উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন।

গত ২৮ মার্চ রাতে পূর্বের হৃদরোগে আক্রান্ত এক ব্যক্তি ঢাকা থেকে ট্রাক যোগে নিজ বাড়ি রংপুরের উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। এসময় তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে ২৯ মার্চ ভোরে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বগুড়ায় নেমেছিলেন তিনিই মূলত করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে থাকা ৪ জন এবং মৃত এক কিশোরসহ মোট ৫ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য গত ১ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছিল। উক্ত পরীক্ষায় রংপুরের এই বাসিন্দা ছাড়া বাকিরা কেউ করোনা আক্রান্ত নন বলে শনিবার রাত ৯ টার দিকে বিষটি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা.গওসুল আজিম চৌধুরী।

সূত্রানুসারে জানা যায়, রংপুরের ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি পরীক্ষার পর গত ২ এপ্রিল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হন। কিন্তু সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) তাকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করা হবে এমন সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে এতদিন কোন ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল না।

তবে তার আক্রান্তের বিষয়টি জেনে যায় আইসোলেশনে নেওয়ার আগে ওই ব্যক্তিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা । আর এ কারণেই ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে যাওয়া ৫ চিকিৎসক ও ৮ নার্সসহ মোট ১৬ জনকে পরদিন শুক্রবার কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। সেই সাথে ওই রোগীকে আইসোলেশন সেন্টারের অন্য রোগীদের থেকে পৃথক রাখা হয়।

চিকিৎসা নেওয়ার জন্য জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ২৯ মার্চ ভোরে ওই আক্রান্ত ব্যক্তি বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকায় নেমে যান। এরপর স্থানীয় এক সাংবাদিক পুলিশের সহযোগীতায় তাকে প্রথমে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। পরে সেখান থেকে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি ওই ব্যক্তি নিজেকে হৃদরোগী হিসেবে পরিচয় দিলে কর্তৃপক্ষ তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি করান। কিন্তু তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে পরদিন ৩০ মার্চ তাকে আইসোলেশন ইউনিট বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১ এপ্রিল অন্য রোগীর সঙ্গে তার নমুনাও রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গাওসুল আজিম চৌধুরী আরোও জানান, করোনা শনাক্ত হয়নি কিন্তু সন্দেহভাজন হিসেবে ইতিপূর্বে যাদের বাড়ি-ঘর লকডাউন করা হয়েছিল সেগুলোর প্রত্যাহার করা হবে। করোনা সনাক্ত না হওয়া সত্ত্বেও বাকি ৪ জনকে আইসোলেশনে রাখা হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী বলেন, ‘সেটা আমরা সকলে বসে সিদ্ধান্ত নিব।’

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button
error: Content is protected !!