গণমাধ্যম সংক্রান্তনাগরিক সেবা

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্প: খুলে যাবে শত সম্ভবনার দ্বার

তবে উওরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় জন সাধারণের সাথে আলোচনা কালে তারা প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়ণ দাবী করেন।বগুড়া থেকে শহীদ এম,মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত দূরত্ব হবে প্রায় ৭৫ কি: মি:। এ ছাড়া প্রস্তাবিত রেললাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে রানীরহাট থেকে কাহালু স্টেশনের দিকে বগুড়া ষ্টেশনের সাথে (ওয়াই) আকৃতিতে আরও প্রায় ১২ কি: মি: রেলপথ নির্মিত হবে।
এই ৮৭ কি: মি: রেলপথ স্থাপনের ফলে বগুড়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ১১২ কি: মি: রাস্তার দূরত্ব কমে যাবে। ফলে লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় যাতায়াতে প্রায় ৩ ঘন্টা সময় সাশ্রয় হবে। একই সাথে নওগাঁ, জয়পুরহাট, গাইবান্দা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, সৈয়দপুর, দিনাজপুর জেলার সংঙ্গে ঢাকার দূরত্ব ও ভ্রমণ সময় আনুপাতিক হারে হ্রাস পাবে।

রেলপথ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে উপকৃত হবে অন্তত ২ কোটি মানুষ। জনগন ঢাকা টাঈাইল মহাসড়কের যানজট থেকে অনেকাংশে পরিত্রাণ পাবে। লাখ লাখ মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তির নিরসন হবে। গতি আসবে অর্থনীতিতে, লাভবান হবে দেশ।
উওরাঞ্চল থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যান্য প্রান্তে আনা নেয়া সহজতর ও সময় সাশ্রয়ী হবে। ফলে বগুড়াসহ উওরাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য সম্ভবনার নতুন দুয়ার হবে। এক কথায়, এই রেলপথ নির্মাণে খুলে যাবে শত সম্ভবনার দ্বার ।

বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত সরাসরি রেলপথ নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় বর্তমান সরকার প্রতি জেলায় রেলপথ সংযোগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। সে ধারাবাহিকতায় বগুড়া – সিরাজগঞ্জ রেল লাইন প্রকল্পের একনেক অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো: শহিদুল ইসলাম জানান, বর্ণিত প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় তৃতীয় এলওসি (লাইন অফ ক্রেডিট) এর সাহায্যে প্রায় ৮৭ কি: মি: ডুয়েল গেজ মেইন লাইন এবং ১৬ কি: মি: লুপ লাইন রেলপথ নির্মিত হবে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে পরামর্শক নিয়োগের লক্ষে সম্ভাব্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রণীত হয়েছে।পরামর্শক নিয়োগের দরপত্র (আরইপি) প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সহসাই (আরএফপি) সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বরাবর ইস্যু করা হবে।

এরপর পরামর্শক নিয়োগের আরএফপি দাখিল এবং মূল্যায়ন শেষে প্রায় ১০-১২ মাস সময়ে প্রকল্পের ডিজাইন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। ডিজাইন কাজ শেষে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নিয়োগ করে মাঠ পর্যায়ে নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পের অধীনে ৮টি মধ্যবর্তী নতুন স্টেশন, বিভিন্ন সাইজের ছোট বড় কালভার্ট এবং ২টি মেজর ব্রিজ নির্মাণ করা হবে-্একটি করতোয়া নদীর উপর এবং অপরটি ইছামতি নদীর উপর। প্রস্তাবিত নতুন ৮টি রেল স্টেশন হচ্ছে (১) কালিয়া হরিপুর (২) সিরাজগঞ্জ রায়পুর (৩) কৃষ্ণদিয়া (৪) রায়গঞ্জ (৫) চান্দাইকোনা ( ৬) শেরপুর (৭) আলিয়া বাজার, এবং (৮) রানীর হাট।প্রতিটি স্টেশনে কম্পিউটার বেইজড আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া বিদ্যমান ৩টি প্রান্তিক স্টেশন’ যথা: বগুড়, কাহালু এবং শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনেও সমম্বিত ভাবে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করা হবে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেণ, প্রজেক্ট পরিচালক মো: শহিদুল ইসলাম। উল্লেখ্য নতুন রেল লাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে অধিকতর নিরাপত্তা ও সময় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে যথা সম্ভব লেভেল ক্রসিং পরিহার করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওভারপাস অথবা আন্ডারপাসের মাধ্যমে গ্রেড সেপারেশন নির্মাণের প্রচেষ্টা নেয়া হবে মর্মে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। প্রকল্পের এ পর্যায়ে অর্জিত অগ্রগতিতে বগুড়াসহ উওরাঞ্চলের জনগনের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ
Tags

সম্পর্কৃত পোস্ট

Close