শিরোনাম:
ছবিঘরবগুড়া সদর উপজেলা

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ৬ শতাধিক চিত্রকর্ম করলেন বগুড়ার প্রনব

প্রনব সরকার বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের সিরাজনগর গ্রামের সুভাষ চন্দ্র সরকারের ছেলে। তিনি বগুড়া শহরের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চারুকলা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। স্কুলের কাজ শেষে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শুধু ছবিই আঁকেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলা (দেশীয় চিত্রকলা) বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে পাশ করেছেন তিনি। ২০১১ সালে লেখাপড়া শেষ করে কর্মজীবন শুরু করেন রাজশাহী লোকনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে। তখন থেকেই শুরু করেন মেহগনি কাঠের উপর বিভিন্ন ডিজাইনে রং এবং তুলির আঁচড় দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি তৈরির কাজ। ২০১৪ সালে রাজশাহী থেকে চলে আসেন বগুড়ায়। যোগদান করেন টিএমএসএস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে চারুকলা শিক্ষক হিসেবে। এরপর বগুড়া শহরের শিববাটি এলাকায় ভাড়া বাসায় গড়ে তোলেন আর্ট গ্যালারি। সেখানে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকর্ম তৈরি করছেন তিনি।
স্কুল জীবনে ভাষণ শুনে এবং ছবি দেখে গ্রামে মানুষের বাড়ির দেয়ালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি আঁকতেন প্রনব সরকার। সেই প্রনব সরকার এখন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ছয় শতাধিক চিত্রকর্ম তৈরি করেছেন। শখের বসেই গত চার বছরে নিখুঁত কারুকার্যে কাগজে এবং কাঠের উপর তৈরি করেছেন এসব চিত্রকর্ম।
প্রনব সরকারের তৈরি চিত্রকর্ম দেখে বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদ খান রনির উদ্যোগে ২০১৬ সালে ‘হৃদয়ে মুজিব’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী একক চিত্রকর্ম প্রর্দশনীর আয়োজন করেন। এরপর গত চার বছরে প্রনব সরকারের চিত্রকর্ম হয়েছে ছয় শতাধিকেরও বেশি। শহরের শিববাটি এলাকায় তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়িটি যেন বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী আর মুক্তিযুদ্ধের ছবি দিয়ে সাজানো। বাসার প্রতিটি রুম ছাড়াও আনাচে কানাচে চিত্রকর্মে ভরপুর। বাসায় ছয় শতাধিক চিত্রকর্মের সঙ্গে বসবাস করেন প্রনব সরকার একাই। আর এই চিত্রকর্ম করতে গিয়ে বিয়ে করার সময় হয়ে ওঠেনি তার।
২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীতে চিত্রকর্মের প্রর্দশনীর আয়োজন করবেন বড় আকারে। এ কারণে দিনরাত কাজ করছেন সমান তালে। আর এই কাজের পেছনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যয় করেছেন ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা। স্কুলের সামান্য বেতনের সিংহভাগ ব্যয় হয় বাসা ভাড়া দিতে। যেটুকু অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে নিজের পেট চলে না ঠিকমতো। তাই চিত্রকর্মের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম কেনার টাকা জোগাড় করতে অবসরে টিউশনি করে থাকেন।
প্রনব সরকার বলেন, ‘স্কুলে লেখাপড়া করা অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে মুগ্ধ হয়ে পড়ি। এরপর গ্রামে মানুষের বাড়ির মাটির দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকতে শুরু করি। আর এই ছবি আঁকতে গিয়ে ছোট বেলাতেই স্বাধীনতা বিরোধীদের নানা কটু কথা শুনতে হতো। কিন্তু তারপরও হাল ছাড়িনি।’
প্রনব সরকার মেহগনি কাঠ দিয়ে তৈরি করেছেন বাংলাদেশের মানচিত্র। এতে বঙ্গবন্ধুর ছোটবেলা থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের ১০০টি ছবি রয়েছে। মানচিত্রের মাঝখানে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ছবি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই মানচিত্রটি উপহার দিতে চান তিনি।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সাহায্য চাই না। মানচিত্রটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে পারলেই আমার কষ্ট সার্থক।’

গনেশ দাস, বার্তা ২৪.কম

সম্পর্কৃত পোস্ট

Close